চাকরির নামে সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসের কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের এমডি-জিএমসহ গ্রেপ্তার ৭

সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব-১ রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরখানের আটিপাড়া বাজারের ‘মা মনোয়ারা সুপার মার্কেটের’ ৪র্থ তলায় সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের অফিসে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- এমএলএম প্রতারক চক্রের এমডি সামসুন্নাহার ওরফে মায়া, জিএম জুয়েল ভূঁইয়া, ডিজিএম কামরুজ্জামান ওরফে ডেনিস, রিসিপশনিস্ট ফারহানা ইয়াছমিন ওরফে সুবর্ণা আক্তার, মার্কেটিং অফিসার মেহেদী হাসান, আল মামুন ওরফে মাসুদ ও তাজবির হাসান ওরফে লোহান। তাদের কাছ থেকে ৫টি ভুয়া নিয়োগপত্র, ৮০টি জীবন বৃত্তান্ত ফরম, ১বক্স ভিজিটিং কার্ড, ১টি মানি রিসিট বই, ১০১টি ভর্তির ফরম ও অঙ্গীকারনামা, ২টি সিল, ১৫টি আইডি কার্ড, ৩টি রেজিস্টার, ৮টি মোবাইল ফোন, ৮ পাতা চাকরি বিজ্ঞাপনের স্ক্রিনশট এবং নগদ ২০ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল প্লাটফর্মে চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছিলো। অনলাইনে এই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একটি চক্র প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে জানা যায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের এমএলএম কোম্পানির বিভিন্ন প্রজেক্টে সাধারণ মানুষকে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে প্রতারণা করছিলো।

গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ এমএলএম প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য ও তাদের কোম্পানি আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই এবং সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের সরকারি অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন নেই। চক্রটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে তাদের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার এবং তাদের অধীনে বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক, এটিএম বুথ, থ্রি স্টার অ্যাপার্টমেন্ট, গার্মেন্টস-টেক্সটাইল, মিল-ফ্যাক্টরি, বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট, মেট্রোরেল হেড অফিস, চায়না প্রজেক্টসহ আরও কিছু জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে কিছু কর্মচারী নিয়োগের জন্য তাদের ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিতো। অফিস থেকে চাকরি প্রার্থীদের মোবাইলে ফোন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট তারিখে অফিসে এসে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বলা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে চাকরি প্রার্থীরা ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য অফিসে গেলে তাদের কাছ থেকে ভর্তি ফরম, ট্রেনিং এবং আইডি কার্ড বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা জামানত আদায় করা হতো। তাদের জানানো হতো পদ অনুসারে তাদের মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। পরে অফিসে যোগ দিলে তাদের নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হতো প্রতি মাসে নতুন নতুন চাকরি প্রার্থী সংগ্রহ করতে হবে এবং নতুন প্রার্থী সংগ্রহের ভিত্তিতে কমিশন হিসেবে তাদের বেতন দেওয়া হবে।

প্রতারণার বিষয়ে বুঝতে পেরে জামানতের টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করতো এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাতো। এভাবে চক্রটি গত ৬ মাসে প্রায় ৭০০-৮০০ জন চাকরি প্রার্থীকে তাদের কোম্পানির নিয়োগ ফরম পূরণ করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। গত ৮ মাস ধরে সিকিউরিটির গার্ড নিয়োগের নামে কোম্পানি চলছিলো। কিন্তু তারা কোনো সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ দেয়নি।

অভিযুক্ত সামসুন্নাহার মায়া ও জুয়েল ভূইয়া একটি সংঘবদ্ধ এমএলএম প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। সামসুন্নাহার মায়া ২০২০ সালে রাজধানীর ঢাকার দক্ষিণখানের মধ্য আজমপুর, সংগ্রামী সরণী রোড বি এলার্ট সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের মার্কেটিং অফিসার পদে চাকরি করতো। পরে গত ৮ মাস ধরে সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা শুরু করে এবং চাকরি প্রত্যাশীদের টার্গেট করে প্রতারণা করছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র থাকবে না
Next post মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করতে তৈরি হয়েছিল ‘দ্য হেজায রেলওয়ে