মাতৃভাষা দিবসে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা রিজভীর

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগের ‘ক্যাডারদের’ হামলায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন রিজভী।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ঢাকা মহানগরীর উত্তর বিএনপির অন্তর্ভুক্ত বিমানবন্দর থানার সাংগঠনিক ওয়ার্ড, দক্ষিণখান থানার ৪৭ ও ৪৯ নং ওয়ার্ড, শাহআলী থানার ৮ নং ওয়ার্ড ও ৯৩ নং আঞ্চলিক ওয়ার্ড, রূপনগর থানার ৯২ নং ওয়ার্ডের প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ‘ক্যাডারদের’ হামলায় বিএনপি নেতা রহিম ও আলাউদ্দিনসহ ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হন।

তিনি অভিযোগ করেন, শুধ তাই নয়, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের সময় আওয়ামী লীগ হামলা চালায়। এতে ছাত্রদল সভাপতি শাহরিয়ার ফায়সাল, পৌরসভা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুলসহ ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহত নেতাকর্মীদের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করলে সেখানেও আওয়ামী ক্যাডাররা হামলা চালায়। তৎক্ষণাৎ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গতকাল বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোটেক বিলকিস জাহান শিরিন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নানুর উপস্থিতিতে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন চলাকালীন পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও অনুষ্ঠান পণ্ড করে।

তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। ভাষা শহীদ দিবসেও তাদের নারকীয় তাণ্ডব অব্যাহত আছে। আওয়ামী সহিংসতার কীর্তি পত্রিকার প্রথম পাতা জুড়ে প্রকাশ পেলেও নিশিরাতের সরকার ভ্রুক্ষেপহীন।

পতনের লক্ষণ প্রকট হয়ে ওঠার কারণেই তারা এখন আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। তারা এক ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি নির্মাণ করতে চাচ্ছে, এই সত্যটি এখন দেশবাসী মর্মে মর্মে অনুভব করছে। নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি বিপন্ন করে এরা এক আজ্ঞাবাহী সংস্কৃতির জন্ম দিতে যাচ্ছে। তারই আলামত চারিদিকে ফুটে উঠেছে, যোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।

হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করলো না। অবৈধ ক্ষমতার গরিমা আর অহমিকায় এরা এখন এতটাই বেপরোয়া যে, বিরোধীস্বর শুনলেই নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে বলেই সন্ত্রাস, হামলা, আক্রমণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এরা গণতন্ত্রকামী জনগণকে দাবিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছাচার ব্যবহার করছে। বিশ্বে স্বৈরাচারের অতীতের সমস্ত নজির ভেঙে গোটা দেশকে ফ্যাসিবাদের আস্তানা বানাতে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য হামলা চালাচ্ছে। তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেলো আজ ভাষা দিবসে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর শহীদ মিনারে।

রিজভী বলেন, ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই নাৎসি সরকারের উৎখাতই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য। জনগণের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে অবিলম্বে এই সরকারের পতন না ঘটাতে পারলে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ভয়াবহভাবে বিপন্ন হবে।

এসময় ভাষা শহীদ দিবসে ও ঝালকাঠিতে বিএনপির অফিসে ভাঙচুর ও সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী। এছাড়া হামলায় আহতদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা ধ্বংস
Next post রাতের আঁধারে মুখে কাপড় বেঁধে মন্দির থেকে মূর্তি চুরি