দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি: রিজভী

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য দুর্নীতির পক্ষে সাফাই ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী গত পরশু বলেছেন-‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের কিছুই করার নেই’। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বোঝা যায়-দেশ চালাচ্ছে না আওয়ামী লীগ, আপনাদের কিছুই করার নেই তাহলে দেশ চালায় কে? দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব অদৃশ্য শক্তিধরদের বক্তব্য পাওয়া যায়। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কর্মহীনতা, অর্ধাহার, অনাহারক্লিষ্ট দেশবাসীর প্রতি এটি মন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতা। যদি আপনাদের কিছুই করার না থাকে, আবার জোর করে ক্ষমতাও আঁকড়ে আছেন। এত লোভ-লালসা কেন? কোনো ভদ্র সরকার হলে যদি নিজেরা ব্যর্থ হয়, কিছু করার না থাকে, তাহলে পদত্যাগ করে। এটাই গণতান্ত্রিক বিশ্বের দৃষ্টান্ত।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেছেন-বিএনপি ৫ বছরের ক্ষমতাকালে দেশকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোন দিক দিয়ে এগিয়েছে সেটির কিছুই বলেননি। আওয়ামী সরকার দেশকে যে পিছনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি।

রিজভী বলেন, ব্যাংক লুট, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচারে যে সরকার দায়ী তাদের উপদেষ্টার মুখে এমন কথাই মানায়। তিনি বিএনপি আমলের দলীয়করণের কথা বলেছেন। অথচ বর্তমানে দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন, বিচার বিভাগে দলীয় লোক বসিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রায় দিলে সেই বিচারককেও দেশান্তরিত হতে হয়। আওয়ামী শাসনে ‘ফরমায়েসি রায়’ এখন বিচার বিভাগের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এই শতকে সভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট সৃষ্টি করেছে আওয়ামী সরকার। এরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য হিংস্রতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১২ বছরে দেশের মানুষকে গরীব বানিয়ে দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আইসিটি উপদেষ্টা সাহেব বিএনপি আমলের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বলেছেন। তাহলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত যে পরিসংখ্যান তাহলো এই- বিএনপি আমলে মোটা চালের দাম ছিল ১৬ থেকে ১৭ টাকা, যা বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। চিকন চালের দাম ছিল ২২ থেকে ২৪ টাকা যা বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সয়াবিন তেলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, বর্তমানে দাম হলো ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। গরুর গোশতের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, যা বর্তমানে ৬৫০ টাকা। মসুর ডালের দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৫ টাকা, যা বর্তমানে ১৩০ টাকা। বয়লার মুরগীর দাম ছিল কেজি প্রতি ৫৫ টাকা, এখন ১৭৫ টাকা। গুঁড়ো দুধ ছিল কেজি প্রতি ২৮৫ থেকে ৩৪৫ টাকা, যা বর্তমানে ৫৯০ থেকে ৬৫০ টাকা। পেয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা, যা বর্তমানে ৫৫ টাকা-কয়েকদিন আগে ছিল ১৩০ টাকা। আলু কেজি প্রতি ছিল ৬ টাকা, এখন ২৫ টাকা। আসলে আওয়ামী নেতাদের বক্তব্য আদতে লুট, দাঙ্গা, হত্যা, ধ্বংস আর রক্তাক্ত উন্মাদনার সমার্থক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দিল্লি যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের
Next post ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা ধ্বংস