ইসি গঠন প্রক্রিয়ায় না থেকে বিএনপি কি ভুল করলো?

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে গঠিত সার্চ কমিটির কাছে ৩২২ জনের নাম প্রস্তাবও করেছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন।

সার্চ কমিটি আজ বৈঠক করে ৩২২ জনের মধ্য থেকে ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে এবং আগামীকাল তারা এই ২০ জনের মধ্যে থেকে ১০ জনকে বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশ করবে।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে সেটার সঙ্গে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একাত্বতা প্রকাশ করলেও ব্যতিক্রম বিএনপি। দেশের অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক দলটি এই কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি সঙ্গে সংলাপে যোগদানও করেনি বিএনপি।

এমনকি অনুসন্ধান কমিটি তাদের কাছে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে নাম চেয়েছে, সে ব্যাপারেও সাড়া দেয়নি। অনুসন্ধান কমিটির চিঠির জবাবও দেয়নি বিএনপি।

বিএনপির দুই নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রুহুল কবীর রিজভী বারবার বলে আসছেন যে, তারা নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে না। এই নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠন হলো, কারা থাকলো, এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নাই, তারা এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

বিএনপি বলছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। আর এ কারণেই নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছে।

কিন্তু বিষয়টি উপরে উপরে হলেও ভেতরে ভেতরে ঘটছে এর উল্টোটাই। কারণ গত কয়েকদিন ধরেই বিএনপি তাদের তৃণমূল শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে।

তারা বলছে, তৃণমূল শক্তিশালী হলে তারা যেকোনো ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করতে পারবে এবং তাতে তারা সফল হতে পারবে। এমনকি তারা দলকে শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত সম্মেলন শেষ হলে জাতীয় কাউন্সিল করা যায় কি না তাও ভাবনা করছে।

তারা চিন্তা করছে তারা এই দল গোছানোর পর নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করবে এবং সরকারকে এই দাবি আদায়ে বাধ্য করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি যদি এই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে যায় তাহলে তারা ভুল করবে। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো রুপরেখা নেই।

দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি এই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়েও একটি বড় ভুল করেছে। কারণ বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যায় তাহলেও তারা এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলবে।

বিএনপি উপরে উপরে বলছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে না যে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। যদি তারা নাই যেতে তাহলে তৃণমূল শক্তিশালী করার দিকে এইভাবে নজর দিতো না। দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বিএনপি’র উচিৎ ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকা।

দল গোছানোর বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আন্দোলন কিংবা নির্বাচন যে পথ ধরেই তারা চলতে চান, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। তাই তৃণমূল শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছেন তারা। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করার জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর সেই আন্দোলন তারা তৃণমূল থেকেই শুরু করতে চায়।

যেকোনো মূল্যেই তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন চায়। এখন দেখার বিষয় তারা কি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন শুরু করতে পারে কিনা? আর এই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে না থেকে তারা আদৌও ভুল করলো কিনা?

Source: Bangla Insider

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post সব সময় এক দল ক্ষমতায় থাকবে, তা মনে করার সুযোগ নেই
Next post বিএনপি’র নতুন কৌশল