মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিজয়ীরা পদত্যাগ করছেন!

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা কমেনি। সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণ ও জায়েদ খানের নির্বাচিত হওয়ার বিতর্ক নিরসন হয়নি এখনও। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত ১১ জন শিল্পী সমিতি থেকে পদত্যাগ করছেন।

মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী পরিষদে বিজয়ী হওয়া সিনিয়র শিল্পী চিত্রনায়িকা রোজিনা পদত্যাগ করে ই-মেইলে চিঠি পাঠিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে থাকবেন।

একই প্যানেল থেকে বিজয়ী সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী হওয়া চিত্রনায়ক রুবেলও পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে বেশ বিব্রত বোধ করছেন এ নায়ক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আজীবন শিল্পী সমিতি নির্বাচন করেছি পিকনিকের মতো করে। কেউ জিতে গেলে অপর প্যানেল আগে মিষ্টি কিনে খাইয়েছে। কিন্তু সার্বিক যে পরিস্থিতি, একটি সিদ্ধান্তের জন্য যে আদালত অবধি গড়াতে হচ্ছে। এ নিয়ে সারাদেশে তুলকালাম।’

রুবেল আরও বলেন, ‘মানুষ আজ আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করছে। কিন্তু কেন? এমন তো হওয়ার কথা না। সিনিয়র শিল্পী হিসেবে আমি খুবই বিব্রত বোধ করছি। আর বিব্রত হতে চাই না, তাই আর কোনোদিন এফডিসি প্রাঙ্গণে যাবো কি-না, তা বলতে পারছি না! আমি সিনেমার মানুষ, সিনেমার রুবেল হয়ে থাকতে চাই। আমরা নিজেদের ভেতরে ঝগড়া করছি, দর্শকরা এই দৃশ্যেও সাক্ষী হিসেবে যেন না দেখে কোনোদিন।’

শুধু রোজিনা-রুবেল নন, চিত্রনায়িকা অরুণা বিশ্বাসও পদত্যাগ করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘আমি এবার নির্বাচনেই অংশ নিতে চাইনি। কারণ নিজের সিনেমা, সেন্সর বোর্ডের কাজসহ ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আমার অনেক। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার কাজ পর্দায় ভালো কিছু উপহার দেয়া। সেই কাজকে আরও অনুপ্রেরণা বা তরান্বিত করার জন্য শিল্পী সমিতি আমাদের একটা আড্ডার জায়গা। এটুকুই তো। এর বেশি তো কিছু না। কিন্তু এ নিয়ে যা হচ্ছে। তার জন্য আমি নিজেই বিব্রত। কারো সঙ্গেই আমার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। ইলিয়াস কাঞ্চন আমার নায়ক। ভোটের দিনও আড্ডা দিয়েছি। আর জায়েদ-নিপুণ দুজনই আমার প্রিয়। নির্বাচনের সময় নিপুণের কাছে শাড়ি উপহার চেয়ে নিয়েছি। আমাদের ভেতরে এই সৌহার্দ্যকে আমি নষ্ট করতে চাই না ব্যক্তিজীবনে। তাই হয়তো আমিও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

একাধিক সূত্রে জানা যায়, আদালতের রায়ে নিপুণ জয়ী হলে জায়েদ সমর্থক বিজয়ীরা পদত্যাগ করতে পারেন। সে হিসেবে আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ের ওপরেই অনেকের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

শোনা যাচ্ছে, মিশা-জায়েদ প্যানেলের প্রায় সকলেই একসঙ্গে পদত্যাগ করতে পারেন। তাই চলচ্চিত্রাঙ্গণে পারস্পরিক সম্পর্ক আর সৌহার্দ্যের অবস্থান কতটুকু থাকবে তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post বিএনপির আন্দোলনের হুমকি হাস্যকর: তথ্যমন্ত্রী
Next post সোমবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিএনপিকে নাম জমা দেওয়ার আহ্বান