সরকার পদত্যাগ না করলে অগ্নিগর্ভ হবে দেশ: রিজভী

সরকারের বিদায়ের ক্ষণ গণনা চলছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুঃশাসনের ভয়ঙ্কর শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে দেশবাসীর আসন্ন দুর্বার আন্দোলনের আশঙ্কায় সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তবে সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই সরকার এ মুহূর্তে পদত্যাগ না করলে মিটিং-মিছিল-শ্লোগান প্রতিরোধে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে সরকার গুম,খুন ও অপহরণকে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার রক্ষাকবজে পরিণত করেছে। আগে শুধু বর্তমান সরকারের ব্যক্তিগত বাহিনী রূপে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান-র‌্যাবকে। এরপর রাষ্ট্রীয় আরেকটি বাহিনী গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশকেও গুম-অপহরণ-বন্দুকযুদ্ধে নামানো হয় গোটা দেশে। এখন সিআইডিকেও গুম-অপহরণে নামানো হয়েছে। ইতোমধ্যে গুম-খুন-অপহরণের উন্মাদ-উভ্রান্ত লীলার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য আমদানি-রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়া শুরু করেছে। ক্ষণ গণনা চলছে সরকারের বিদায়ের।

রিজভী বলেন, আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, গুম-অপহরণ-দুঃশাসন চালিয়ে যেভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন গুম-খুন অপহরণের শিকার পরিবারগুলোর শোকার্তরা কাফনের কাপড় পরে স্বজনদের খোঁজে গণভবনের দিকে রওনা দেবে।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে ঘিরে ধরেছে অদ্ভুত এক রহস্যময় আঁধার। রাষ্ট্র ও সরকারে কোথায় কী হচ্ছে, সব কিছুতেই অস্পষ্টতা-রহস্যময়তা। সমালোচনা ও চাপের মুখে গত মঙ্গলবার দেখলাম পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, কাঁথা-বালিশ-চাদর কেনার ইস্যু নিয়ে পুলিশ প্রধানকে ঘিরে যা কিছু বলা হচ্ছে সবই বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। জার্মানি বিছানার চাদর উৎপাদন ও রপ্তানিকারক কোনো দেশ নয়, তারা ভারী শিল্পের দেশ। সঙ্গত কারণে আইজিপির চাদর,বালিশের কাভার ক্রয়ের জন্য জার্মানি গমনের কোনো অবকাশ নেই’।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখন জনমনে প্রশ্ন-তাহলে ৭ ফেব্রুয়ারি সুনিশ্চিত ভঙ্গিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কাঁথা-বালিশ ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল তা কি ভুল ছিল? এটা কি এখন প্রত্যাহার করা হয়েছে? আইজিপির নাম কি ভুলে দেওয়া হয়েছে? না কি তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল? বড় প্রশ্নটি হচ্ছে-রাষ্ট্র ও সরকারের অভ্যন্তরে হচ্ছেটা কী? সরকারের নাটাই কার হাতে?

সংবাদ সম্মেলন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম ও আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ১০ সহস্রাধিক বহিষ্কৃত নেতা আর দলে পদ পাবেন না
Next post সততার সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী