cec

নিমন্ত্রণের অর্ধেক শিক্ষাবিদই না আসায় যা বললেন সিইসি

শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপে দেওয়া পরামর্শ পর্যালোচনা করে নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেছেন, সময় বলে দেবে আমরা কতটা করতে পেরেছি। সংলাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কী পরামর্শ দিয়েছেন, কতটুকু আমরা নিতে পেরেছি। নিতে পেরেও কতটুকু ফলদয় হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।

শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা তাদের পরামর্শ গুরুত্বসহকারে শুনেছি এবং লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে আমরা এগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে আমাদের তরফ থেকে কিছু করণীয় আছে কি না সেগুলো নির্ধারণ করবো এবং যথাসময়ে আপনারা অবহিত হতে পারবেন।

‘ইচ্ছে আছে, অনেক কিছু করার সাধ্য থাকে না- সিইসির এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টা আসলে তেমন না। সব সাধ্য তো কখনোই হয় না। জিনিসটা হয় আপেক্ষিক। আরো ভালো করা, আরো ভালো করা, আরো ভালো করা। আর কিছু দ্বিমত থাকবেই। এর অর্থ হলো- আপনার একটা বিষয় পুরোপুরি ভালোভাবে করা সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক দেশেও হয় না।’

সিইসি বলেন, ‘এটার অর্থ ওটা নয় যে আপনি যদি বলেন অ্যাবসোলিউটলি পারফেক্টলি করতে হবে সেটা কিন্তু সম্ভব নাও হতে পারে। অ্যাবসোলিউটলি জিনিসটা আমরা কেন অনেক দেশেই হয় না। কাজেই সেটাকে অন্যভাবে নেবেন না। আমরা আলোচনার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা চেষ্টা করবো আমাদের সামর্থ্য বাড়াতে এবং আপনারা যে পরামর্শগুলো দিয়েছেন সেগুলো দিয়ে আমরা আরও ঋদ্ধ হয়ে কীভাবে আমাদের আগামী নির্বাচনে আমাদের দক্ষতা কে আরও বেশি প্রয়োগ করে, সুন্দর, সুষ্ঠু ও আরও অবাধ নির্বাচন করতে পারি। আমরা ওই কথাটা তো বলেছি যে আপনাদের সকলের সহযোগিতা লাগবে। আজকের আলোচনায় উপস্থিত উনারাও বলেছেন যে সমঝোতা লাগবে এবং সকল দিক থেকে সহযোগিতা লাগবে।’

সংলাপের প্রথম দিনে বেশিরভাগ শিক্ষাবিদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা কিন্তু নির্বাচন না। আজকে যেটা ছিল এখানে কিন্তু নির্বাচন হয়নি। এখানে আমরা অনেককে নিয়ন্ত্রণ করেছি খুব স্বভাবতই অনেকের বিভিন্ন অসুবিধা থাকতে পারে। আমরা ৩০ জনকে নিমন্ত্রণ করেছিলাম ১৫ জন এসেছেন এবং সেটা খুব ভালোভাবেই তারা আলোচনা করেছেন। আমাদের আলোচনায় কোনো ঘাটতি হয়েছে তা না। মোটামুটি যারা আলোচনা করেছেন তারা সবাই একজন আরেকজন কে সমর্থন করে একই কথারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কাজেই সে দিক থেকে আরও বেশি আসলে আমরা আরো বেশি খুশি হতাম। আগামীতে যদি আমরা আরো বেশি পার্টিসিপেশন চাই তাহলে একটু বেশি জনকে আমরা দাওয়াত করলাম।

অনেকে বলেছেন আগেও তারা সংলাপে অংশ নিলেও তাদের কথা মতো কোনো কাজ হয়নি তাই আস্থাহীনতার কারণে আসেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তারা অতীতেও পরামর্শ দিয়েছেন আজকেও দিয়েছেন আগামীতে দেখবেন। সময় বলে দেবে আমরা কতটুকু পেরেছি। তারা কী পরামর্শ দিয়েছিলেন আমরা কতটা নিতে পেরেছি বা নিতে পেরেও কতটা ফলোদয় হয়েছে সেটা ভবিষ্যৎ বলে দেবে। আজকে কোনো কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করে দেওয়া যাবে না।

দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন চাইলেও ইসি করতে করতে পারবে না- সংলাপে অংশ নেয়া শিক্ষাবিদদের এমন বক্তব্য নিয়ে সিইসি বলেন, সকলে এভাবে বলেননি। এটা ঠিক নয়। সেটা হলো কেউ বলেছেন যে ওই ইলেকশনটা কেয়ারটেকার কমিটির আমলে হয়েছিল। উনারা বলেছেন এখন সাংবিধানিক সরকার আছে। এরমধ্যেই আমাদের নির্বাচন করতে হবে। কাজেই যেটাকে বলা হয় একটি দলীয় সরকার ও নির্দলীয় সরকার সেটা ওনারা ওনাদের বক্তব্য দিয়েছেন আমরা শুনেছি। সকলেই এভাবে বলেননি যে নির্দলীয় সরকার লাগবেই। এভাবে আমরা সকলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য শুনিনি। দু একজন হয়তো বলেছেন।

সিইসি বলেন, উনারা স্বীকার করেছেন যে রাজনৈতিক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলগুলোর মধ্যে যদি একটা সমঝোতা থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশনের কাজটা একটু সহজ হবে। আমরা আরও দক্ষতার সঙ্গে তাদের সহযোগিতার কারণে আমরা আমাদের দায়িত্ব তাকে আরও সুচারুভাবে পালন করতে পারব।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post হঠাৎ বৈঠকে ৫ মন্ত্রী
Next post ইসির ডাকে যাননি যেসব শিক্ষাবিদ