কলেজ ছেড়ে ওয়েটারের কাজ, বাবার থেকে ৮ হাজার টাকা ধার নিয়ে আজ বছরে কোটি টাকার ব্যবসা

কলকাতাঃ আপনি যত পরিশ্রম করবেন, ফল ততই পাবেন। আপনি যদি জীবনে বড় কিছু করার ভাবনা নিয়ে কোমর বেঁধে নামেন, তাহলে আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না। হ্যাঁ, প্রথমে অনেক বাধাবিপত্তি আসবে। তবে সেগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারলে আপনিও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। আজ এরকমই একজনের কাহিনী শোনাবো আপনাদের।

এক গ্রামের ছেলে প্রফুল্ল উপরের কথাগুলো সত্য প্রমাণিত করেছেন। প্রফুল্ল চা বিক্রির ব্যবসা করেন এবং আজ তিনি এতটাই সফল হয়েছেন যে তার ব্যবসার পরিমাণ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

আহমেদাবাদের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী প্রফুল্ল বিল্লোর সারা দেশে “এমবিএ চাইওয়ালা” নামে পরিচিত। অন্যান্য ছাত্রদের মতো, প্রফুল্লও এমবিএ-তে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু এমবিএ-তে ফেল করার পর বুঝতে পারলেন তার ভাগ্যে অন্য কিছু লেখা রয়েছে। এরপর প্রফুল্ল বিল্লর এমবিএ ছেড়ে রাস্তার ধারে চায়ের দোকান দেন। এরপর প্রফুল্ল যা করলেন তা আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণামূলক গল্প হয়ে উঠেছে।

প্রফুল্ল এই উচ্চতায় পৌঁছতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আমি যখন ক্যাটে ভালো নম্বর পাইনি তখন আমি হতাশ হয়েছিলাম। তাই আমি অন্যকিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাবা-মা চেয়েছিলেন আমি শুধু স্নাতক করি। এরপর আমি এদিক ওদিক অনেক ভ্রমণ করেছি, কিন্তু আমি আহমেদাবাদে পৌঁছানোর পর আমি সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে আমি পার্টটাইম চাকরি পাই।”

প্রফুল্ল বলেন, “আমি জানি আমার বাবা-মা বুঝবেন না, কারণ তারা ডিগ্রি চেয়েছিলেন।” তাই এমবিএ কলেজে ভর্তি হলাম। এরপর আমি পড়াশোনা এবং কাজ দুইই করছিলাম। কিন্তু সত্যি কথা বলতে, আমি একজন এমবিএ ছাত্রর থেকে বেশি একজন ক্যাশিয়ার হিসেবে বেশি শিখছিলাম। আমি আমার নিজের ব্যবসা শুরু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য আমার কাছে যথেষ্ট টাকা ছিল না। এরপর একদিন আমি একজন চা পানকারীর সাথে কথা বলি। তারপর চায়ের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিলাম।

চায়ের দোকান খোলার প্রথম দিনেই প্রফুল্লের বিক্রি করা দুধ নষ্ট হয়ে যায়। প্রফুল্ল চা বানাতেন, কিন্তু এই সময়ে চা খুব মিষ্টিও হয়ে যায়। এসব ঝামেলায় প্রথম দিনে মাত্র ১ কাপ চা বিক্রি করেন প্রফুল্ল। কিন্তু দ্বিতীয় দিন ভালোই যায় এবং চা খেটে যারা এসেছিলেন, তাঁরা রাজনীতি নিয়ে অনেক আলোচনা শুরু করে। এরপর প্রফুল্লের চায়ের দোকান টুকটাক করে ভালোই চলছিল।

প্রফুল্লের কাজ ভালোই চলছিল। ফলস্বরূপ, সে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা উপার্জন করতে শুরু করল। কিন্তু প্রফুল্ল এই কাজেই সবকিছু দিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি এমবিএ পড়া ছেড়ে দেন। এরপর তার বাবা-মা বলেন যে, সে তার পরিবারকে লজ্জায় ফেলতে চায়। তার বন্ধুরাও তাকে বলেছিল যে, সে এমবিএ করতে গিয়ে কী করা শুরু করল। কিন্তু প্রফুল্ল সবাইকে উপেক্ষা করাই শ্রেয় মনে করে।

অবশেষে সেই দিন এলো যেদিন প্রফুল্লের দোকান এমবিএ চাওয়ালা হিসেবে স্বীকৃতি পেল! ফলে প্রফুল্ল বিয়েতে চায়ের অর্ডার পেতে শুরু করেন। তারপর প্রফুল্ল যখন ২ বছর পর তার প্রথম ক্যাফে খোলেন, তখন তার বাবা-মা তাকে নিয়ে খুব গর্বিত ছিলেন। প্রফুল্লের এখন সারা ভারতে ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে।

যারা তাকে উপহাস করতে চেয়েছিলেন তারাও এখন প্রফুল্লের সাফল্যের প্রশংসা করেন। প্রফুল্ল বলেছিলেন যে, এখন লোকেরা আমার কাছে পরামর্শ চায়। আমি তাদের বলি ডিগ্রি কোন ব্যাপার না। আমি এখানে যা পছন্দ করি সেটাই করি। প্রফুল্ল তার এমবিএ ছেড়ে একটি চায়ের স্টল খোলেন। তার চা ব্যবসা শুরু করার ৪ বছরে তিনি ৩ কোটি আয় করেছেন এবং সারা দেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post কাউন্সিল অব ইউরোপ থেকে বের হয়ে গেল রাশিয়া
Next post বাংলাদেশে ধরা পড়ল ভারতের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো কচ্ছপ