দুদকের শরীফকে অপসারণ, রিট শুনানিতে হাইকোর্টে যত যুক্তিতর্ক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলোচিত উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৫ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

১০ আইনজীবীর করা রিটের ওপর দুদক ও রিটকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেছেন, শরীফের ঘটনা দুদকের আভ্যন্তরীণ বিষয়। শরীফ সংক্ষুব্দ হলে আদালতে আসতে পারে। তারা (১০ আইনজীবী) আসতে পারেন না।

তিনি বলেন, তাদের লুকাসস্ট্যান্ডি (আইনগত এখতিয়ার) নেই। এছাড়া দুদকের আদেশের বিরুদ্ধে শরীফ রিভিউ আবেদন করেছে। সেটা বিচারাধীন। তাই এ রিট খারিজ করার আর্জি জানাচ্ছি। আজকে শরীফের ইস্যুতে আদেশ দিলে অন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তার (শরীফ) অপসারণ ঠেকানোর জন্য তৃতীয়পক্ষ আদালতে এসেছে।

এসময় রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে বলেন, কমিশনে শরীফের করা আবেদনের সঙ্গে এ রিটের কোনো সম্পর্ক নেই। শরীফের পক্ষে-বিপক্ষে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তাকে বদলি বা অপসারণ করলে আমার কিছু আসে যায় না। কিন্তু যখন দেখি, দুর্নীতির তদন্তে নেমে বিপদে তখন আসে যায়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, দুদকের এই বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কী অপরাধে শরীফকে অপসারণ করা হয়েছে, সেটা জানানো হয়নি। শরীফের বক্তব্য শোনা দরকার। তাকে তলব করা হোক। এ রিটের পর বলা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা। রিট না হলে আমরা কিছুই জানতাম না।

এসময় দুদকের আইনজীবী বলেন, শরীফকে ডাকলে তো তার আবেদন হয়ে যাবে। সেটা দরকার নেই।

এদিন আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলী।

দুদকের পক্ষে শুনানি করা সিনিয়র আইনজীবী খুরশীদ আলম খান তিনি বলেন, যেভাবে শিশির মনির শুনানি করছেন তাতে সন্দেহ হচ্ছে, তিনি কি ১০ আবেদনকারীর নাকি শরীফের আইনজীবী। কারণ, বারবার আবেদনে শরীফ ঢুকে যাচ্ছে।

শিশির মনিরের শুনানি নিয়ে আদালত বলেন, শরীফ তো আসতে পারতো। শিশির মনির বলেন, আমরা তো আসতে পারি। আমরা এসে কি ভুল করলাম। কমিশনের দুর্নাম হলে আমিও সংক্ষুব্দ হই, আমি আসতে পারি। কারণ দুদক পাবলিক প্রতিষ্ঠান।

শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে দুদক কার্যালয়। এরপর শরীফ উদ্দিনের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন ১০ আইনজীবী।

রিটকারী আইনজীবীরা হলেন, মোহাম্মদ শিশির মনির, রেজওয়ানা ফেরদৌস, জামিলুর রহমান খান, উত্তম কুমার বণিক, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. তারেকুল ইসলাম, আহমেদ আবদুল্লাহ খান, সৈয়দ মোহাম্মদ রায়হান, মো. সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নোয়াব আলী।

তার আগে শরীফ উদ্দিনের জীবনের নিরাপত্তা ও ঘটনার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে চিঠি পাঠান ওই ১০ আইনজীবী। সেই সঙ্গে চিঠি দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও।

পরে ওই চিঠির বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী শিশির মনির। তখন আদালত তাকে বলেন, আমাদের মাধ্যমে সুয়োমোটো না করে আপনি আবেদন নিয়ে আসতে পারেন, যদি আপনি প্রকৃত অর্থে দুদকের ওই কার্যক্রম নিয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন। কীভাবে সংক্ষুব্ধ হলেন ব্যাখ্যা দিয়ে আসুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ৭৪-এর দুর্ভিক্ষের দিকে বাংলাদেশ!
Next post হঠাৎ করেই ব্যাংক থেকে উধাও ৫২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা