ফরিদপুর-৩ আসন নিয়ে নানা গুঞ্জন

সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন যিনি বাবর নামেই পরিচিত। তার গ্রেপ্তারের পর ফরিদপুর এবং সারাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফরিদপুর-৩ আসন নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০০৮ সালে এই নির্বাচনী আসন থেকে বিজয় হয়েছিলেন, তারপর তিনি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তারপর থেকেই এই আসনটি নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা ছিল না, এই আসনে তাকে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত প্রার্থী হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ফরিদপুরে শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন যে আগামীতে ফরিদপুর-৩ আসনের মনোনয়ন পাচ্ছে না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

তবে তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন বয়সের কারণে তিনি নিজেই এবার নির্বাচন করবেন না। আর এ কারণেই এখন ফরিদপুর-৩ আসনে আগামী নির্বাচনে কে প্রার্থী হবে সে নিয়ে নানারকম গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে গত ৮ মার্চ বাবর আটক হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন ফরিদপুর-৩ আসন নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে, ফরিদপুর-৩ আসনে যদি শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রার্থী না হন তাহলে এই আসনের অন্যতম দাবিদার হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি, হা-মীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদ।

তিনি ফরিদপুরবাসী এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন, এই আসনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

আবার কেউ কেউ বলছেন যে, কাজী জাফরউল্লাহকে মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর আসন থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হবে এবং ফরিদপুর-৩ আসনে তাকে প্রার্থী করা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি হবে কিনা, সেরকম কোনো নিশ্চয়তা আওয়ামী লীগের কোনো মহল থেকেই পাওয়া যায়নি।

আবার ফরিদপুর-১ আসনে গতবার নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে এবং বাবরের গ্রেপ্তারের পর আব্দুর রহমানও নড়েচড়ে বসেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে।

তিনিও তাঁর আসন পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত ফরিদপুর-৩ আসনে গাঁটছড়া বাঁধতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন কে পাবেন তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতির ওপর।

তবে ফরিদপুরের ৩ আসনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে, বাইরে থেকে কোন প্রার্থী নয় বরং যারা তৃণমূলের ত্যাগী-পরীক্ষিত কোন ব্যক্তিকেই এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

বিশেষ করে বাবরযুগে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফরিদপুরে যারা বিভিন্নভাবে নিপীড়িত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন দলের কঠিন সময় সংগঠনকে আগলে রেখেছেন, এরকম ব্যক্তিদেরকেই মনোনয়ন দেয়া উচিত।

আওয়ামী লীগ সভাপতি সাম্প্রতিক মনোনয়নগুলোতে চমক দেখিয়েছেন। বিশেষ করে তৃণমূলের প্রতি তিনি আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর সে কারণেই ফরিদপুরের তৃণমূলের মধ্যেও এ নিয়ে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

তাঁরা মনে করছেন যে, শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনোনয়ন না পান তাহলে হয়তো ফরিদপুরের মনোনয়ন পেতে পারেন কোন ত্যাগী তৃণমূলের নেতা। তাহলেই ফরিদপুর-৩ আসনের সবকিছু বিচার করা হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ‘ইতিহাস নিয়ে বলতে গেলে অনেক হিসাব করে বলতে হয়’
Next post রিজভীর মুখে কসটেপ এঁটে দিতে চাইলেন তারেক