মোদির বিকল্প কেজরিওয়াল না মমতা?

ভারতের পাঁচ বিধানসভার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিজেপি চারটিতেই বিজয়ী হয়েছে। আর অন্যদিকে পাঞ্জাবে আম-আদমি পার্টি বিজয়ী হয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের আগে কৃষক বিদ্রোহ, নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া, করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতা ইত্যাদি নানা ইস্যু নিয়ে মনে করা হচ্ছিল যে নরেন্দ্র মোদীর যুগ বোধহয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, নরেন্দ্র মোদি এখনো ভারতে জনপ্রিয়। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মনিপুর এবং গোয়ায় বিরোধী দলকে পাত্তাই দেয়নি বিজেপি।

অন্যদিকে পাঞ্জাবের এবার আম-আদমি পার্টি এককভাবে নির্বাচন করেছে। আম-আদমি পার্টি কংগ্রেস এবং বিজেপির বাইরে একটি রাজনৈতিক দল যারা দিল্লি বিজয়ের পর এবার পাঞ্জাবে বিজয় কেতন উড়ালো। তবে এই নির্বাচন একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।

পশ্চিমবাংলার নির্বাচনের পরে মনে করা হয়েছিল যে, মমতা ব্যানার্জি বোধহয় ভারতে নরেন্দ্র মোদির বিকল্প নেতা এবং নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন একমাত্র তৃণমূলের এই নেতাই।

কিন্তু সর্বশেষ বিজেপির পাঁচ রাজ্যের ফলাফলের পর মনে করা হচ্ছে যে, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও হতে পারেন নরেন্দ্র মোদির বিকল্প এবং আগামী নির্বাচনে কংগ্রেস নয় বরং বিকল্প রাজনৈতিক দলের জোট হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে আম আদমি পার্টি, তৃণমূলের মতো রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিত শক্তি।

আর সেক্ষেত্রে পাঞ্জাব বিজয়ের মধ্য দিয়ে কেজরিওয়াল নরেন্দ্র মোদির বিকল্প হওয়ার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে গেলেন বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আম আদমি পার্টি টানা তিনবার দিল্লির মসনদ জয় করেছেন এবং এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দিল্লীতে একটি নতুন ধরনের ব্যবস্থাপনা দাড় করিয়েছেন যেটিকে জনবান্ধব বলা হয় এবং দিল্লির জনগণ কেজরিওয়ালের শাসনে অত্যন্ত খুশি, তারা এটিকে দিল্লি মডেল বলছেন।

দিল্লিতে কেজরিওয়াল স্কুল-কলেজের উন্নতি ঘটিয়েছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন, বিদ্যুৎ এবং পানির বিলে সাধারণ মানুষকে অনেক সাশ্রয়ী মূল্য দিয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন করেছে, নানাভাবে সরকারি পরিষেবা বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দেওয়া ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকারি অফিস-আদালতে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে দিল্লি মডেল এখন জনপ্রিয়। আর সেই ধারায় তিনি এবার পাঞ্জাবি কি করেন সেটি দেখার বিষয়।

আমরা যদি নরেন্দ্র মোদির উত্থানের পর্ব বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখব যে, নরেন্দ্র মোদির গুজরাট মডেল দিয়েই সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এখন অরবিন্দ কেজরিওয়াল কি সেই পথেই যাচ্ছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আর অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক নেতা হিসেবেই নিজেকে পছন্দ করছেন এবং সেখানেই তিনি থাকতে চাচ্ছেন। তিনি তার রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিস্তৃতি বাড়াচ্ছেন না।

তবে একটি বিষয় পাঁচটি রাজ্যর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে তা হলো যে, কংগ্রেস এখন আর বিজেপির বিকল্প নয়। বিজেপি হটাতে গেলে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক ঐক্য দকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই ঐক্যের নেতা কে হবেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল নাকি মমতা ব্যানার্জি।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post একরাম কি বহিস্কৃত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ থেকে?
Next post বিএনপির ২ শতাধিক নেতাকর্মীর আ.লীগে যোগদান