একরাম কি বহিস্কৃত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ থেকে?

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একরামুল করিম চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে এখন আওয়ামী লীগে তোলপাড় চলছে। গতকাল তিনি ফেসবুক লাইভে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ঘৃণিত লোক বলে সম্বোধন করেছেন।

এটি নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড় চলছে। একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য নন, তিনি দীর্ঘদিন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

গত বছর এই কমিটি বিলুপ্ত করে দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিরও সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশই কিভাবে করেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, ওবায়দুল কাদের যাই করুক না কেন, প্রকাশ্যে একরাম চৌধুরী ধরনের বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য এবং দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে কেউই একরামুল করিম চৌধুরীর ব্যাপারে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিষয়টি সামনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচিত হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে একরামুল করিম চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের জন্য নোয়াখালী থেকে একটি প্রস্তাব এসেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক না হওয়ার জন্য এই প্রস্তাবটি আলোচিত হয়নি। তবে এখন ফেসবুক লাইভে এসে একরাম চৌধুরী যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা হতাশ এবং বিস্মিত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর ইস্যুটাকে জিইয়ে রাখার ফলে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কাদের মির্জা যখন একের পর এক কথা বলছিলেন তখনও আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছে। আবার যখন একরামুল করিম চৌধুরী কথা বলেছেন তখনও কেউ তাকে থামাতে বলেননি। ফলে একটা ফ্রিস্টাইলে অবস্থা শুরু হয়েছে। দুইপক্ষ যে যার বিরুদ্ধে কুৎসিত নোংরা ভাষার প্রয়োগ করছেন এবং সমালোচনা করছেন। এটি শেষ বিচারে আওয়ামী লীগকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে আওয়ামী লীগের ওই নেতা মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বা একরামুল করিম চৌধুরী কি জেনে বুঝে এটি বলেছেন? আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, একরামুল করিম চৌধুরী ফেসবুক লাইভে এসে যে মন্তব্য করেছেন তা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সুস্পষ্টভাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ।

এরকম অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কাজেই একরামুল করিম চৌধুরী বাদ যাবে না।

তবে আওয়ামী লীগের কেউ অন্য হিসেবও করছেন। তারা মনে করছেন যে, এই বিষয়টি বোধহয় গঠনিকভাবেই মীমাংসা করা ভালো হবে। কারণ সামনে নির্বাচন।

যেকোনো বিচারে একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালীতে একটি বড় ফ্যাক্টর। তাকে এই মুহূর্তে চটিয়ে আওয়ামী লীগই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আওয়ামী লীগের ওই অংশ মনে করে।

তারা মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি নিশ্চয়ই দুই পক্ষকে নিয়ে বসবেন এবং তাদেরকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেবেন এবং একসাথে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেবেন। এছাড়া নির্বাচনের আগে কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলছেন যে, একরামুল করিম চৌধুরী অবস্থান নোয়াখালীতে খুব দৃঢ় এবং ২০০১ এর নির্বাচনে তার কারণেই ওবায়দুল কাদের পরাজিত হয়েছিল।

কাজেই নোয়াখালীর সবগুলো আসনে একরামুল করিম চৌধুরীর একটা প্রভাব বলয় রয়েছে। এজন্যই তাকে হয়তো শোকজ করা হবে। তার কাছে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং এরপর এটি সাংগঠনিকভাবে মীমাংশা করা হবে।

তবে অনেকেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি হয়তো এবার কঠোর অবস্থানে যাবেন। কারণ দলের এই ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভেতরে থেকে এ ধরনের ফ্রিস্টাইল মন্তব্য দলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কাজেই একরামুল করিমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে হয়তো তিনি অন্যদের শিক্ষা দেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত একরাম করিম আসলে বহিস্কৃত হবেন নাকি এ যাত্রায় পার পেয়ে যাবেন সেটা বোঝা যাবে আওয়ামী লীগের আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হলেই।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ইউক্রেনকে সদস্য করবে না ইইউ, সাফ জানিয়ে দিল
Next post মোদির বিকল্প কেজরিওয়াল না মমতা?