ইউক্রেনে যাচ্ছে মার্কিন…

‘সর্বাত্মক হামলা’ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর পর ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণের মাত্রা আরও তীব্রতর হতে দেখা যাচ্ছে।

শনিবার একাধিক শহরে রুশ বাহিনী তাদের ধ্বংস অভিযান জোরদার করেছে।

একইদিন মস্কোর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেইনকে সহায়তায় দেশটিতে আরও ২০ কোটি ডলারের অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

শনিবার কিইভের উপকণ্ঠে একাধিক সড়কে যুদ্ধ চলেছে, বিধ্বস্ত এক সেতুর আশপাশে দেখা মিলেছে ক্রন্দনরত অনেক বাসিন্দার, সহিংসতা থেকে বাঁচতে যাদেরকে জরুরি মালপত্র নিয়ে ছাড়তে হচ্ছে রাজধানী।

নিজেদের দখলে নেওয়া একটি শহরের মেয়রকে রুশ বাহিনী আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যার পাল্টায় শহরটির কয়েকশ বাসিন্দা সড়কে নেমে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে ইউক্রেইনীয়দের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টায় দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন।

রুশ হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইউক্রেইনের এক হাজার তিনশর মতো সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এবারই প্রথম ইউক্রেইনের সরকার তাদের নিজেদের নিহত সেনার সংখ্যা প্রকাশ করল।

পশ্চিমারা ইউক্রেইনকে যে অস্ত্রশস্ত্র পাঠাচ্ছে, সেগুলোর বহর রুশ বাহিনীর হামলার ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হতে পারে রাশিয়া সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনের সেনাবাহিনীকে আরও অস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে; এসবের মধ্যে যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রুশ অভিযান, সহিংসতা ও বিভিন্ন শহরে টানা গোলাবর্ষণের কারণে এরই মধ্যে ২৫ লাখের বেশি বেসামরিককে ইউক্রেইন ছাড়তে হয়েছে।

গোলাবর্ষণ সত্ত্বেও শহর ছাড়তে না পারা মারিওপোলের বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছেন ও ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে মানবিক বিপর্যয়ের’ সাক্ষী হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা।

শহরটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৫৮২ বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন সেখানকার বাসিন্দারা কোনোরকমে বেঁচে থাকতেও হিমশিম খাচ্ছেন, মৃতদের গণকবরে সমাহিতে বাধ্য হচ্ছেন।

“এক সপ্তাহেরও বেশি হল সেখানে খাবার পানি ও ওষুধ নেই। ১০ দিনও হতে পারে। ওষুধের অভাবে মানুষজনকে মরতে দেখেছি আমরা,” মারিওপোলে কর্মরত ডক্টরস উইদাউট বর্ডারের এক সদস্যকে এক অডিও রেকর্ডে এমনটাই বলতে শোনা গেছে। শনিবার ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস ওই অডিও রেকর্ডটি প্রকাশ করে।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলাৎজ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমর পুতিনের সঙ্গে ফোনে দেড় ঘণ্টা কথা বলেছেন; ‘খোলমেলা’ ও ‘জটিল’ ওই আলোচনায় শলাৎজ ও ম্যাক্রোঁ পুতিনকে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছে ফরাসী সরকার।

যদিও পুতিন যুদ্ধ বন্ধে কোনো আগ্রহ দেখাননি, তিনি সংঘাতের দায়ও ইউক্রেইনের ওপরই চাপিয়েছেন, বলেছে ফ্রান্স।

পুতিনের কথাবার্তায় তিনি যে ‘লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ তাও ফুটে উঠেছে, মন্তব্য করেছে তারা।

ক্রেমলিনও ওই ফোনালাপের কথা নিশ্চিত করেছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে নরওয়েতে কয়েকদিন পর থেকে শুরু হতে যাওয়া নেটো বাহিনীর মহড়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন।

রাশিয়া সীমান্তের খুব কাছে হতে যাওয়া ওই মহড়ায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ২৫ দেশের ৩০ হাজারের মতো সৈন্যের অংশ নেওয়ার কথা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটটি বলেছে, নরওয়েতে প্রতি ২ বছর পর পরই নেটোর মহড়া হয়; এবারের মহড়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আরও ৮ মাস আগে এবং এর সঙ্গে ইউক্রেইনে রুশ হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।

উৎসঃ বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে যা বলল সিআইডি
Next post বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করল সিপিবি