মার্চে শুরু বিএনপির জেলা সম্মেলন

আগামী জুনের মধ্যে তৃণমূল সম্মেলন শেষ করতে চায় বিএনপি। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে। করোনা বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার হলে মার্চে জেলা সম্মেলন শুরু করবে দলটি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৪টিতে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে।

১২ জেলায় আংশিক আহ্বায়ক কমিটি আছে।
এই প্রক্রিয়া শুরুর পর নীলফামারী, খাগড়াছড়ি ও মানিকগঞ্জ—এই তিন জেলায় সম্মেলন হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আন্দোলন কিংবা নির্বাচন যে পথ ধরেই তাঁরা চলতে চান, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। তাই তৃণমূল শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছেন তাঁরা। ইউনিয়ন-ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত সম্মেলন শেষ হলে জাতীয় কাউন্সিল করা যায় কি না তা-ও ভাবনায় আছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, চলতি মাসের মধ্যে করোনা বিধি-নিষেধ উঠে যাবে। তখন সাংগঠনিক কার্যক্রম গতি পাবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তাঁর উন্নত চিকিৎসার দাবিতে স্থগিত জেলাভিত্তিক সমাবেশও শুরু করা হবে তখন।

গত শুক্র ও শনিবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি তাদের অধীন ৭১ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের আহ্বায়ক ঘোষণা করেছে। মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু গ্রেপ্তার হওয়ায় সাংগঠনিক কাজে ধাক্কা খেলেও কয়েক দিনের মধ্যে তাঁরাও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি করা হয়েছে। এর এক দিন আগে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগরের দুই অংশের কমিটি হয়েছে। গতকাল বরিশাল জেলা পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ৩০ মার্চ ঢাকা জেলা এবং ৫ মার্চ গাজীপুর জেলা ও মহানগরের নেতাদের সম্মলনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে আরো কয়েকটি জেলার সম্মেলন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, বেশির ভাগ জেলা সম্মেলন করার মতো প্রস্তুত আছে। করোনা বিধি-নিষেধ উঠে গেলেই সম্মেলন শুরু হবে। কিভাবে তৃণমূল কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানতে চাইলে রুহুল কবীর রিজভী আরো বলেন, কেন্দ্র থেকে জেলার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেওয়া হচ্ছে। জেলা সেই আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে। কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়ার পর শুরু হয় ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা ও উপজেলা কমিটি গঠনের কাজ। সব পর্যায়ের কমিটি গঠন শেষ হলে জেলা সম্মেলন হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা জানিয়েছেন, মাসখানেক আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান টানা পাঁচ দিন ১০ সাংগঠনিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেছেন। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের পর জুনের মধ্যে জেলা সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত যেসব জেলা
মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যে সম্মেলন হওয়ার মতো প্রস্তুতি আছে বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, জয়পুরহাট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, শেরপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, মার্চে তাঁর বিভাগের অন্তত দুই জেলায় সম্মেলন হবে। এপ্রিলের মধ্যে বাকি জেলায় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা উপজেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা আছে।

বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক বলেন, মার্চে পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলা সম্মেলন হবে। এপ্রিলের মধ্যে বাকি জেলায় সম্মেলন করতে পারবেন। তিনি জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি নলছিটি উপজেলা ও পৌরসভায় সম্মেলন হবে। পটুয়াখালীর ১০ উপজেলায় সম্মেলনও শেষ হবে এ মাসে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসনের নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সারা দেশে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চলছে। শিগগিরই জেলা পর্যায়ে সম্মেলন শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ১৬ কোটি টাকা দামের চায়ের স্বাদ নিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Next post হাজতখানায় ছাত্রলীগ নেতাদের সেলফি!