জীবাণু অস্ত্র নির্মাণে ইউক্রেনকে অর্থ দিচ্ছে আমেরিকা

অত্যাধুনিক জৈব অস্ত্র নির্মাণে ২০০৫ সাল থেকে ইউক্রেনকে অর্থ দেওয়া শুরু করেছে আমেরিকা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নথি সংগ্রহ করে শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে রুশ গণমাধ্যম স্পুতনিক।

কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, হোয়াইট হাউজ, পেন্টাগন এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তর দ্ব্যর্থহীনভাবে রাশিয়ার এ দাবি অস্বীকার করেছে। তারা বলেছেন, এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই। মার্কিনিদের দাবি, ‘এটি সম্পূর্ণ বাজে কথা। ইউক্রেনে তাদের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতেই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে রাশিয়া।’ স্পুতনিক, নিউ ইয়র্ক টামস, বিবিসি।

জৈব অস্ত্র কী : সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে বিষপ্রয়োগ করেছে, শুধু ব্যক্তিগত শত্রুতা উদ্ধারের জন্য নয়-কখনো কখনো বিরাট সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধেও। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে, যা বর্তমানে জৈবিক অস্ত্র নামে পরিচিত।

জৈব অস্ত্র ব্যবহারের প্রথম নথিভুক্ত উদাহরণ পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০০ অব্দে, হিটাইটিসরা শত্রুদের দুর্বল করতে রোগাক্রান্ত ভেড়া শত্রুশিবিরে পাঠিয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দে বর্তমান ইউক্রেনে বাসকারী সিথিয়ান নামক এক যাযাবর উপজাতি তীরের অগ্রভাগে ব্যবহৃত বিষ উৎপাদন করার জন্য একটি অনন্য কৌশল ব্যবহার করত।

রাশিয়ার দাবি : স্পুতনিক বলছে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৫ সালের নথি অনুযায়ী, তৎকালীন মার্কিন সিনেটর রিচার্ড লুগার ইউক্রেনের ওডেসা শহরে একটি জৈব গবেষণাগার প্রস্তুত ও তাতে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তার অন্যতম সঙ্গী ছিলেন তৎকালীন সিনেটর ও পরবর্তীকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের তৎকালীন সরকারকে লেভেল থ্রি সেফটি ল্যাব নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়ার পর এই ধরনের জৈব গবেষণাগারগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণা করা হয়। মূলত উচ্চ ঝুঁকির বিপজ্জনক জীবাণু গবেষণার জন্যই তৈরি করা হয় লেভেল থ্রি সেফটি ল্যাব।

লুগার ও ওবারার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নন-লুগার আইনের আওতায় ইউক্রেনের ওডেসা শহরে এই ধরনের একটি গবেষণাগার নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় দেশটির তৎকালীন সরকার। নন-লুগার আইনের সারমর্ম অনুযায়ী, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ধ্বংস করবে এবং আধুনিক গবেষণাগার নির্মাণসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নির্দেশনায় নিজের অস্ত্র প্রস্তুত করবে। সেই অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে ওডেসা শহরে শুরু হয় ইন্টেরিয়াম সেন্ট্রাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি (আইসিআরএল) নামের জৈব গবেষণাগার নির্মাণের কাজ।

কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন : জৈব অস্ত্র খাতে অর্থায়ন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে মার্কিনিরাও। ফক্স নিউজের হোস্ট টাকার কার্লসন এবং অন্যরা বিভ্রান্তিকরভাবে আমেরিকান কর্মকর্তাদের মন্তব্যকে প্রমাণ হিসাবে উদ্ধৃত করে বলেছেন-তারা (আমেরিকা) জৈবিক অস্ত্র তৈরি বা গবেষণা পরিচালনা করছে। কার্লসন বৃহস্পতিবার রাতে তার প্রোগ্রামে বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড, আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট, মঙ্গলবার সিনেটের শুনানিতে আকস্মিকভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আসলে হ্যাঁ, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনে একাধিক বায়োল্যাবকে অর্থায়ন করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post পকেট মারতে গিয়ে বইমেলা থেকে গ্রেফতার অভিনেত্রী
Next post ইসির ডাকে সাড়া দেননি অধিকাংশ শিক্ষাবিদই