‘পার্টি সব সময় বিএনপির সঙ্গে ছিলো, আছে এবং থাকবে’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে উল্লেখ করে এর থেকে মুক্তির জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউটে বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে একটি দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করছে। তারা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারা এসব করছে একটি দল, একটি ব্যক্তি এবং একটি পরিবারকে মহিমান্বিত করার জন্য।

এই কাজটা তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিভাবে করছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যে আশা আকাঙ্কা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি সেটা এই সরকার ধ্বংস করে দিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, এই সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আ স ম আবদুর রব, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী, প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের অবদান স্বীকার করতে চায় না। এখন একবারের জন্যেও তাদের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করে না আওয়ামী লীগ। নিদারুণ কষ্ট করে যারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন তাদেরকে অস্বীকার করে তাদেরকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আজকে ভয়ঙ্কর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।

যে রাষ্ট্রের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি সেই রাষ্ট্র আজকে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আজকে যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

আমাদের দুর্ভাগ্য আজকেও আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারিনি। আমাদের রাষ্ট্রকে ফিরে পেতে হলে, মানুষের মুক্তি পেতে হলে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই আলোচনা থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও মুক্তিকামী মানুষদের আহবান জানাতে চাই, আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হই। সকলের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতির প্রকৃত ইতিহাস ছাড়া ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। আমরা কষ্ট করে টাকা উপার্জন করবো আর সরকার এটা লুটপাট করে বিদেশে নিয়ে যাবে এটার জন্যেতো বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়নি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাস একটা পরিবারের কাছে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পারলে তারা বাংলাদেশের নামটাও বদলায় ফেলে। দেশটার নামও একটা পরিবারের নামে করতে চায়। যা ভয়ঙ্কর অন্যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের এদেশে সম্মান না দিয়ে হেও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যতো বড় দলই হোক পৃথিবীর কোন দেশেই এককভাবে স্বৈরাচারকে পতন করা যায়নি। আপোষের সাঙ্গেতো এই সরকার যাবে না। আর সম্মানের সঙ্গে যদি না যায় তাহলে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা এককভাবে নয়। সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে সড়াতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা না দেখে, না শুনে কথা বলতে পারি না। কিন্তু সরকারের লোকেরা না জেনে, না শুনেও কথা বলে। আমরা আগে ইতিহাস জানি এবং কথা বলি। আজকে সরকারের লোকেরা মনে করে এই সরকারের আমলে সব কিছুই সম্ভব কিন্তু এটা আর হতে দেয়া যবে না।

তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। এক হয়ে সরকারকে বিদায় করতে হবে। আপনাদের (বিএনপি) উপর বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। বড় মানুষের কাছে সবাই আশা করে। এখনো যখন বিএনপি সমাবেশ করে তাতে মানুষের ঢল নামে। মানুষ মনে করে বিএনপি রাস্তায় নামলে দেশে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোন রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটা সবার সম্মিলিত যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকে হাইজ্যাক করে, ছিনতাই করে একটি দলের কৃতিত্ব বানানো হলে তা ইতিহাস সহ্য করবে না। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সব সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সব সময় বিএনপির সঙ্গে ছিলো, আছে এবং থাকবে।

তিনি বলেন, আজকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা বয়সে তরুণ আমি তাদের প্রতি আবেদন রাখবো, আপনারা শহীদ জিয়াকে জানতে চেষ্টা করুন। আসমানে নক্ষত্র অনেক থাকে না। বাংলাদেশের নক্ষত্র শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, সরকারের সকল অপপ্রচার সব সময় সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে। এবাবো সব দল মত মিলে এই সরকারের সকল অন্যায়কে প্রতিরোধ করা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের পরিচালনায় এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহবায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান প্রমূখ।

উৎসঃ মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ‘এই রকম ফোরটোয়েন্টি সরকার জীবনে দেখিনি’
Next post ইউক্রেন ইস্যুতে এরদোগানের সঙ্গে যে কথা হলো বাইডেনের