নোয়াখালীতে অস্তিত্বের সংকটে আওয়ামী লীগ!!

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ বিভক্ত। কোনো রকম চেইন অব কমান্ড নেই, কোনো নেতৃত্বে নেই। যে যার মতো করছে, যে যেভাবে পারছে ফ্রিস্টাইলে কথাবার্তা বলছে।

এর ফলে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খীরা বলছে, এখনই যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে নোয়াখালীতে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী। সেই ওবায়দুল কাদেরেই এখন নোয়াখালীতে সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে একটি মহলের কাছে চিহ্নিত হচ্ছেন।

একটি মহল মনে করছে, নোয়াখালীতে যে বিশৃঙ্খলা এবং লেজেগোবরে অবস্থা এর জন্য দায়ী ওবায়দুল কাদের। আজ নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ফেসবুক লাইভে ১৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড বক্তব্য রাখেন। এই বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে নোয়াখালীর সবচেয়ে ঘৃণিত লোক বলে মন্তব্য করেছেন।

ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীর নেতা নন। তিনি আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি। সাধারণ সম্পাদকও বটে। এরকম একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা সম্বন্ধে এই ধরনের বক্তব্য ধৃষ্টতাপূর্ণ ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। বরং আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, নোয়াখালীতে একরামুল করিম চৌধুরী এ ধরনের বক্তব্য রাখার সাহস পাচ্ছে অনেক কেন্দ্রীয় নেতার মদদে এবং ইন্ধনে।

দীর্ঘদিন ধরেই নোয়াখালীতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে, সেই বিশৃঙ্খল অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ফলে আগামী নির্বাচনে এর ভয়ঙ্কর মাশুল দিতে হবে।

নোয়াখালীর রাজনীতি সম্বন্ধে সচেতন এমন ব্যক্তিরা বলছেন যে, নোয়াখালীর রাজনীতির কলকাঠি নাড়েন একরামুল করিম চৌধুরী এবং একরামুল করিম চৌধুরী যদি না চান তাহলে নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের বিজয় অসম্ভব। তারা এটাও বলেছেন যে, নোয়াখালীর রাজনীতিতে একরামুল করিম চৌধুরী কারো উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করতে পারে।

কিন্তু কাদের মির্জার উত্থানের পরপরই একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে প্রথমে কাদের মির্জার পরবর্তীতে ওবায়দুল কাদেরের গোলযোগ প্রকাশ্য আকার ধারণ করছে। অবশ্য একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের এই বিরোধ নতুন নয়, অতীতেও এরকম বিরোধ হয়েছিল এবং ২০০১ সালের বিরোধের জেরেই শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদের ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে আলাউদ্দিন নাসিম এবং সাবের হোসেন চৌধুরীর মধ্যস্থতায় ওবায়দুল কাদের এবং একরামুল করিম চৌধুরী সমঝোতা হয়েছিল। যে সমঝোতার কথা ওবাদুল কাদের তার গ্রন্থেই উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আস্তে আস্তে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা লাইমলাইটে আসতে শুরু করেন এবং তিনি যখন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচন শুরু করেন তখনই তিনি টার্গেট করেন একরামুল করিমকে। একরামুল করিমও সেই সময় কাদের মির্জা এবং ওবায়দুল কাদেরের পিতাকে রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এজন্য তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।

পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে এই বক্তব্য তিনি প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু কাদের মির্জা এখন ফ্রিস্টাইলে কথাবার্তা বলছেন। আর তার জবাব দিতে গিয়ে একরামুল করিম চৌধুরী আজ দলের সাধারণ সম্পাদককে আক্রমন করে বসলেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, নোয়াখালীতে এই ফ্রিস্টাইল কথাবার্তা বন্ধ যদি না করা হয় তাহলে এর প্রভাব সারাদেশে পড়বে এবং যেটি এখনই পড়তে শুরু করেছে। ফলে কেউ কাউকে মানবে না। দলের একটা চেইন অব কমান্ড থাকে। তৃণমূলের নেতারা জেলার নেতাদের কথা শুনবেন। জেলার নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা শুনবেন।

এটি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সংস্কৃতি। কিন্তু নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগে কে নেতা এটিই যেনো এখন একটা বড় প্রশ্ন। কারণ কেউ কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না। ফলে এই সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। যেটি আওয়ামী লীগের অস্তিত্বে টান দিচ্ছে।

নোয়াখালী এমনই আওয়ামী লীগবিরোধী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখনই যদি এই বিরোধ মেটানো না যায় তাহলে পরে সামনে আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরনের সংকট অপেক্ষা করছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post লাশ তোলা হবে হারিছের!
Next post ‘নোয়াখালীর সবচেয়ে ঘৃণিত লোক ওবায়দুল কাদের’