শূকরের হৃদপিণ্ড বসানো সেই ব্যক্তি মারা গেছেন

বিশ্বে প্রথমবারের মতো শূকরের হৃদপিণ্ড বসানো মার্কিন নাগরিক ডেভিড বেনেট মারা গেছেন। শূকরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের মাত্র দুইমাস পর তার মৃত্যু হয় বলে বিবিসি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

বিবিসি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে ৫৭ বছর বয়সি ডেভিড বেনেটের দেহে পরীক্ষামূলকভাবে হৃৎপিণ্ডটি প্রতিস্থাপন করেছিলেন।

কয়েকদিন আগে থেকেই বেনেটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।

অস্ত্রোপচারের এক দিন আগে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বেনেট জানিয়েছিলেন, বিষয়টা এমন যে, হয় মরতে হবে নয়তো প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমি জানি, এটা হচ্ছে অন্ধকারে ঢিল ছোড়া, কিন্তু এটাই আমার শেষ ভরসা।

এর আগেও অবশ্য প্রতিস্থাপন করা হৃৎপিণ্ড নিয়ে বেনেটের আয়ু কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারছিলেন না চিকিৎসকরা। তখন তারা জানিয়েছিলেন, তিনি কতটা সময় পাবেন (বাঁচবেন)-একদিন, সপ্তাহ, মাস, নাকি বছর-আমি জানি না।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনে সফলতা পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।

গত কয়েক দশক ধরে গবেষকরা পশুদেহ থেকে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু মূল সমস্যা ছিল, মানবদেহ যাতে তাৎক্ষণিকভাবে সেই অঙ্গ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিত করা। সেজন্য গবেষকরা শূকরের জিন বিন্যাস থেকে একটি অংশ বাদ দেন, যেটি শর্করা তৈরি করত। এরপর সরকারের অনুমতি নিয়ে সেই পরিবর্তিত জিনের একটি শূকরের জন্ম দিয়ে সেটি বড় করে তোলা হয়।

জিন রূপান্তরিত ওই শূকরের হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গও মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব বলে গবেষকরা মনে করেন। শূকরের হৃদযন্ত্রের ভালভ মানবদেহে বসানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রে দিনে ১৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়। দেশটিতে এক লাখেরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ৬৪ কোটি টাকা খরচেও মেলেনি নৌযান
Next post পটুয়াখালীতে পায়ে আঘাত নিয়ে একা একা থানায় হাজির ঘোড়া