যে কারণে যুদ্ধ থামাতে পশ্চিমা নেতাদের দারে দারে ঘুরছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট

ইউক্রেনের ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে ইসরাইল। আর এসব শরণার্থীদের বসানো হচ্ছে অধিকৃত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে, ইউক্রেনের ইহুদিরা তাদের দেশে চলে আসুক। ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার চেয়ে ইহুদি জনসংখ্যা বাড়ানোই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

শুধু ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় নয়, ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতেও চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছে না ইসরাইল। মধ্যস্থতার জন্য পশ্চিমা নেতাদের দারে দারে ঘুরছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। শনিবার মস্কোয় উড়ে যান তিনি।

ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিন ঘণ্টার বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বেনেট। এরপর জার্মানিতে উড়ে যান। বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

গত মাসের শেষের দিকে (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়। হামলা-পালটাহামলার মুখে শরণার্থী হিসাবে সীমান্তবর্তী মধ্য-ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষ। এর মধ্যেই ইউক্রেনের ইহুদি অধিবাসীদের ইউরোপের বদলে ইসরাইলে চলে আসার আহ্বান জানায় দেশটির সরকার।

২৬ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ইউক্রেনের সব ইহুদিকে ইসরাইলে চলে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এটা আপনাদেরই দেশ।’ শুধু তাই নয়, সরকার সব প্রশাসনিক জটিলতাও দূর করে দিয়েছে যাতে করে দ্রুততার সঙ্গে ইউক্রেনীয় ইহুদিরা চলে আসতে পারে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদন মতে, ইউক্রেন থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত একশ ইহুদি ইসরাইলে এসে পৌঁছেছে। বিমানের দুটি বিশেষ ফ্লাইটে করে তাদের আনা হয়েছে। ফ্লাইট দুটির একটি এসেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ও আরেকটি এসেছে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর ওডেসা থেকে।

রোববার আরও তিনটি ফ্লাইটে অন্তত তিনশ ইহুদি ইসরাইলে আসার কথা ছিল। ইসরাইলের সরকার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও ১০ হাজার ইউক্রেনীয় ইহুদি ইসরাইলে আসবে। ইউক্রেন থেকে এসব ইহুদিদের জন্য অবৈধভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি জমিতে ১ হাজার বাড়ি নির্মাণ করা হবে। যার ঘোষণা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

এসব আবাসন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে ইসরাইলি সরকার পরিচালিত ‘ওয়ার্ল্ড জায়োনিস্ট অর্গানাইজেশনস সেটেলমেন্ট ডিভিশন’। ইউক্রেন যুদ্ধকে ইসরাইলে ইহুদি জনসংখ্যা বাড়ানোর বড় সুযোগ হিসাবে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

যেমনটা বলছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ‘ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাইথ ওয়েলস’র অধ্যাপক লানা তাতোয়ার। আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে এই অধ্যাপক বলেন, ‘ইউক্রেন সংঘাতকে ইহুদিদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রকৃত সুযোগ হিসাবে দেখছে ইসরাইল।

তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, ইসরাইল ঢালাওভাবে ইউক্রেনের শরণার্থীদের জন্য তার সীমান্ত খুলে দিচ্ছে না, সে শুধু ইউক্রেনীয় ইহুদিদের সুযোগ দিচ্ছে।’

এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে অবস্থিত রাশিয়াকে বাদ দিলে আয়তনে ইউরোপের বৃহত্তম দেশ ইউক্রেন। ইউক্রেনের মোট আয়তন ৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ বর্গকিলোমিটার।

ইউরোপের বৃহত্তম দেশ হলেও এর জনসংখ্যা জার্মানি ও ফ্রান্সের চেয়ে কম। মাত্র ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দেশটিতে বসবাস করেন। এর মধ্যে ইহুদিদের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো।

বেশিরভাগেরই বাস রাজধানী কিয়েভ, দেনিপ্রো, খারকিভ ও ওডেসা শহরে। রুশ হামলার মুখে ১১ দিনে ইউক্রেনের প্রায় ১৫ লাখ নাগরিক দেশ ছেড়েছেন।

উৎসঃ jugantor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ‘যুদ্ধে যারা নৃশংসতা করছে কাউকেই ছাড়ব না’
Next post খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ…