কারা আসছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে?

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৫টি সদস্য পদ শূন্য রয়েছে। এই সদস্য পদগুলোতে কারা আসছেন এই নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির এই শূন্য সদস্য পদগুলো এখন পূরণ করা হবে না। আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। তবে এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করছেন অনেকে।

তারা বলছেন যে, কেন্দ্রীয় কমিটির এই শূন্য পদগুলো যেকোনো সময় পূরণ করা হতে পারে। যেভাবে প্রেসিডিয়ামের শূন্য পদগুলো পূরণ হয়েছে, একইভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে যে শূন্য পদগুলো রয়েছে, সেই পদগুলো শীঘ্রই পূরণ করা হতে পরে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এ ব্যাপারে কাজ করছেন। তবে পদ পূরণ করা হবে কি হবে না, এই চিন্তা পাশ কাটিয়ে কারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা চলছে।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির চারটি সদস্য পদ শূন্য ছিল। সিটি নির্বাচনের পর সাঈদ খোকনকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপরও আওয়ামী লীগের তিনটি সদস্য পদ শূন্য ছিল। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ নাসিম এবং আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থেকে তিনজনকে প্রেসিডিয়ামে নেওয়া হয়।

এরা হলেন, খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। ফলে কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য সদস্য পদের সংখ্যা এখন পাঁচটিতে। কারা এই পদে আসতে পারেনি, এ নিয়ে আওয়ামী লীগে নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে। এসব আলাপ-আলোচনায় যে নামগুলো উঠে আসছে তাদের মধ্যে রয়েছে,

১. শেখ ফজলে নূর তাপস: শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। তিনি তিনবারের এমপি। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাও বটে। তবে তার কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো মনে করছে। ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে তাকে এখন তৈরি করার জন্যই কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়ে আসা হতে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে।

২. চয়ন ইসলাম: চয়ন ইসলাম যুবলীগ নেতা ছিলেন। যুবলীগের কাউন্সিল অধিবেশন করা হয়েছিল তার নেতৃত্বেই। তিনি ক্যাসিনো বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে জর্জরিত যুবলীগের কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হয়েছিল এবং শেষপর্যন্ত সফল কংগ্রেস করেছিলেন। এই সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

৩. হারুন অর রশিদ: হারুন অর রশিদ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যুবলীগের বিরুদ্ধে যখন নানারকম অভিযোগ ঠিক সেই সময় তিনি একটি ক্লিন ইমেজ নিয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন শেষ করেন। এজন্যই তাকেও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন।

৪. শামীম ওসমান: শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার সাথে সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্য হয়।

আর এ কারণেই তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিয়ে এসে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিকে বিতর্ক মুক্ত করার একটা পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের আছে বলেই অনেকে মনে করেন। সেই বিবেচনা থেকে শামীম ওসমানও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন।

৫. জাকিয়া নূর লিপি: জাকিয়া নূর লিপি চার নেতার পরিবারের সন্তান। তিনি সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর পর তার আসন থেকে এমপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন। একজন চিকিৎসক এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা, সেই হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তার আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগে এই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post অলংকারিক সাধারণ সম্পাদক কাদের: বিকল্প নেতৃত্বের মাধ্যমে চলছে আ’লীগ!
Next post যুদ্ধে লাভ শুধু যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের?