রাশিয়া ইস্যুতে বিভ্রান্ত বিএনপি

বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি সংকটে পড়ে। তারা কোন পক্ষে যাবে, কি সিদ্ধান্ত নিবে এ নিয়ে তাদের দলের মধ্যেই নানা রকম ঝামেলা তৈরি হয়। আর এটি দলের চিন্তা-চেতনার সমন্বয়হীনতাকে উন্মোচিত করে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইস্যুতে একই ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া ইস্যুতে বিএনপি’র অবস্থান কি এ নিয়ে যেমন অস্পষ্টতা রয়েছে, তেমনি এক নেতা এক এক রকম বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে ফেলছেন।

এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপি আরও দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। রাশিয়ায় যখন ইউক্রেন আক্রমণ করে তখনও বিএনপি’র দুইজন নেতা এই আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীতে যখন দেখা যায় যে, চীন, পাকিস্তান রাশিয়ার পক্ষে তখন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা চুপসে যান। রাশিয়ার আগ্রাসনের পরপরই বিএনপি দুই নেতার এই আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর ঘটনাকে বিএনপি নেতারা বলছেন তাদের ব্যক্তিগত মতামত, বিএনপি’র কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

উল্লেখ্য যে, রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণ পরপরই বিএনপি’র দুই নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই রাশিয়ায় বাংলাদেশের একজন নাবিকের মৃত্যু হয়।

এই মৃত্যুর পর বিএনপি নেতারা আবার রাশিয়া ইস্যুতে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু রাশিয়া ইস্যুতে বিএনপি’র বক্তব্য কি বা এই নিয়ে তাদের অবস্থান কি এই নিয়ে বিএনপি’র কোনো নেতাই মুখ খুলতে রাজি নন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

কিন্তু রাশিয়া ইস্যুতে তিনি কুলুপ এঁটেছেন। কোনো বক্তব্য রাখছেন না। একই রকম অবস্থা অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও। বিএনপি প্রথমে ভেবেছিল যে, রাশিয়া ইস্যুতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানে যাবে এবং তাদের ভাষায় আগ্রাসনের বিরোধিতা করবে। এরকম একটি প্রস্তুতি বিএনপি’র মধ্যে ছিল এবং বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী একটি বক্তৃতায় এরকম একটি ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

কিন্তু যখন দেখা গেল যে, যুদ্ধের আগে আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাশিয়া সফর করলেন এবং রাশিয়াকে সমর্থন জানালেন তখন বিএনপি বিভ্রান্ত হলো। একইভাবে চীন যখন রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তখন বিএনপি’র মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়লো।

বিএনপি’র নেতারা চিন্তা করছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে গিয়ে তারা চীন এবং পাকিস্তানকে নাখোশ করছেন কিনা। রাশিয়ার যুদ্ধ উপমহাদেশের রাজনীতিতে অদ্ভুত এক মেরুকরণ তৈরি করেছে।

এই অঞ্চলে পাকিস্তান এবং ভারত দুই জনই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটদানে বিরত থেকেছে। একই পথ অনুসরণ করেছে বাংলাদেশও। ফলে বাংলাদেশের যে নিরপেক্ষ অবস্থান, সেই অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়েছে।

বিএনপি’র কোনো কোনো নেতা চেয়েছিল যে, এই ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাভাজন হওয়ার এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। কিন্তু যেহেতু চীন, পাকিস্তান এবং ভারত সরাসরি কোনো অবস্থান নিচ্ছে না তাই বিএনপি নেতারাও এখন বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

ফলের রাশিয়া ইস্যুতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য খাপছাড়া, অস্পষ্ট এবং উদ্দেশ্যহীন। শুধু রাশিয়া ইস্যু নয়, বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তাতে প্রায়ই বিএনপি একটি দিকভ্রান্ত রাজনৈতিক দল হিসেবেই নিজেদেরকে প্রমাণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post যুদ্ধে লাভ শুধু যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের?
Next post জাতীয় সরকারের দাবি কার স্বার্থে