জাতীয় সরকারের দাবি কার স্বার্থে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাঝেমাঝেই জাতীয় সরকারের দাবি উচ্চারিত হয়। এ দাবি কোন মূল ধারার রাজনৈতিক দল থেকে আসে না, কিছু ব্যক্তি বা ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ দাবিগুলো উত্থাপিত হয়।

অধিকাংশ সময় এই দাবিগুলো গুরুত্বহীন এবং স্রেফ রাজনৈতিক বক্তৃতা হিসেবেই বিবেচিত হয় কিন্তু মাঝে মাঝে এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য আছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সন্দেহ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আবার নতুন করে জাতীয় সরকারের দাবি উত্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন কারণে আলোচিত-সমালোচিত গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জাতীয় সরকারের দাবি করেছেন। একইসাথে জাতীয় সরকারের দাবি উচ্চারণ করেছেন জেএসডির প্রধান আ স ম আব্দুর রব। ডা. জাফরুল্লাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

এই কথাগুলো যে নিছক কথার কথা এমনটি নয়, তার পিছনে সুনির্দিষ্ট কার্যকরণ এবং লক্ষ্য থাকে। যেমন তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজী হাবিবুল আঊয়ালের নাম প্রস্তাব করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত কাজী হাবিবুল আউয়ালই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন।

কাজেই ডা. জাফরুল্লাহ যে কোন বক্তব্য স্ব-প্রণোদিত হয়ে নিজের চিন্তাপ্রসূত বক্তব্য রাখেন এমনটি নয়, এর পেছনে থাকে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, আ স ম আব্দুর রবও বিভিন্ন ঋতুতে রং পাল্টান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলেন। এখন এই দুইজন কেন জাতীয় সরকারের দাবি উত্থাপন করেছেন, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিএনপি অবশ্য ডা. জাফরুল্লাহ এবং আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সরকারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে যাবে না।

এমনকি তারা এটাও বলেছে যে, আ স ম আব্দুর রব এবং ডা. জাফরুল্লাহর জাতীয় সরকারের দাবি অযৌক্তিক এবং এটির সঙ্গে বিএনপি’র কোন সম্পর্ক নেই। প্রশ্ন উঠেছে যে, বিএনপি যখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করেছে ঠিক সেই সময় জাফরুল্লাহ এবং আ স ম আব্দুর রব জাতীয় সরকারের দাবি উত্থাপন করলেন কার স্বার্থে?

বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন, এর পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, জাফরুল্লাহ আসলে সরকারের এজেন্ট। বিভিন্ন সময়ে তিনি সরকারের পক্ষে কাজ করেন।

ওই নেতা বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা বিএনপিকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রলুব্ধ করেছিল তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের পরেই ডা. জাফরুল্লাহর নামা আসে। আর সে কারণে তারা মনে করেন যে, বিএনপির নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে অগ্রহণযোগ্য করার জন্যই বোধহয় এই রকম একটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির কোন কোন নেতা মনে করেন যে, এইসব দাবির পিছনে আন্তর্জাতিক মহলের ষড়যন্ত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক কোনো কোনো মহল এ ধরনের দাবিকে উস্কে দেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আ স ম আব্দুর রব, ডা. জাফরুল্লাহর বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি। সরকার এই দাবিকে আমলেই নিচ্ছে না।

তবে আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে নির্বাচনের সময় সকল দলের সম্মিলিত একটি সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল, সেই প্রস্তাব বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছিল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কি এরকম একটি সব দলকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিকল্প প্রস্তাব কোনো কোনো মহল থেকে হচ্ছে। সেই জন্যই কি আগ বাড়িয়ে জাতীয় সরকারের দাবি উত্থাপন করা হয়েছে?

এটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থীকে বলা হয়েছে যে, ২০১৪ সালে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেটি ছিল তখনকার বাস্তবতা। এখন সেই বাস্তবতা নেই। ২০১৮ সালে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ২০২৩ একইভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post নতুন মোড়কে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু
Next post ‘বিএনপির ৫০ বছরেও ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই’