বিএনপির নেতৃত্ব ছাড়তেই হচ্ছে তারেককে

শেষ পর্যন্ত বিএনপি নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, বিএনপির নেতৃত্ব ছাড়তে হচ্ছে তাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে শেষ পর্যন্ত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নিতে পারেন তারেক। বিএনপি’র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই বিএনপির মধ্য থেকে নাটকীয় ঘোষণা আসতে পারে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব ছাড়লেও দলের চাবি থাকবে তারেক জিয়ার হাতেই, তিনিই দল চালাবেন। বিভিন্ন মহল বর্তমানে সময়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য তারেককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি’র নেতৃত্বে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিএনপির অন্যতম পরামর্শক, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ প্রথম তারেকের বিএনপির পদ ছাড়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এই প্রস্তাব সেই সময় বিএনপিতে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিল, বিএনপির অনেক নেতাই এর প্রতিবাদ করেছিলেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, এটি ছাড়া বিএনপির এগিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। প্রশ্ন উঠেছে যে, কেন তারেককে বিএনপির পদ ছাড়তে হবে? বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন একাধিক কারণেই বিএনপিকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক চাপ: আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার বিএনপিকে বলা হচ্ছে যে, বিএনপিতে একটি পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তারেক জিয়া ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলাসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই তাকে একজন সন্ত্রাসের মদদদাতা এবং দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

আর সে কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মনে করে যে বিএনপিকে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য তারেকের নেতৃত্ব ছাড়ার কোন বিকল্প নেই। তাঁরা মনে করছে যে, যেহেতু তিনি দণ্ডিত, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে একজন দণ্ডিত ব্যক্তি নেতৃত্বে থাকতে পারেন না।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক জিয়া বিদেশে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। একজন পলাতক ব্যক্তি কখনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে পারে না।

তাছাড়া বিএনপি যে আন্দোলন-সংগ্রাম করবে, বিদেশে থাকা একজন ব্যক্তি সে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারেনা। তারা মনে করছে যে, দেশে বিএনপিতে যদি একজন যোগ্য নেতাকে দাঁড় করানো যায় সেই নেতা বিএনপিকে গোছানো এবং এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অধিকতর উপযোগী হবে।

তৃতীয়, দলের ভিতরে তারেকবিরোধী মেরুকরণ: দলের নেতারা মনে করছেন যে, তারেক জিয়া দীর্ঘদিন ধরে দেশের নেই। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। কোন নেতাকর্মী কি করছেন, সে সম্পর্কেও লন্ডনে বসে পর্যাপ্ত এবং সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। যার ফলে তিনি একের পর এক ভুল করছেন।

বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রায়ই পক্ষপাতিত্ব এবং অযোগ্যদের দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠছে। এসব বাস্তবতা দলের ভেতর থেকে তারেকবিরোধী একটি আওয়াজ উঠেছে। তারা মনে করছেন যে, বিএনপিকে এ সময় তারেকের কর্তৃত্বমুক্ত করতে হবে। কারণ, তারেক জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে সঠিকভাবে ওয়াকিবহাল নন।

সর্বশেষ, সাধারণ মানুষের কাছে তারেক জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই নেই: সাধারণ মানুষ তারেক জিয়াকে একজন দুর্বৃত্ত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ হিসেবেই মনে করেন।

এরকম একজন ব্যক্তির নেতিবাচক ইমেজ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। সে কারণেই বিএনপি মনে করছে আপাতত তারেক জিয়া যদি বিএনপির নেতৃত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ায় তাহলে জনগণের মধ্যে একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে।

তাছাড়া বিএনপির মধ্যে একটি অংশ জিয়া পরিবারের বাইরে একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপিকে বিন্যস্ত করতে চাইছেন। আর সে কারণেই নাটকীয়ভাবে হয়তো তারেক জিয়ার দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আসলেও আসতে পারে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ‘এর জন্য দায়ী সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ সরকার’
Next post বিলুপ্তির পথে হেফাজত?