তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিন বিকল্প নিয়ে ভাবছে বিএনপি

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু মুখে এ কথা বললেও বিএনপি নেতারা ভালোমতোই জানেন যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা এখন অসম্ভব ব্যাপার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য যেরকম আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার সে রকম আন্দোলনের বাস্তবতা নেই। বিএনপি’র সাংগঠনিক শক্তি এবং নেতৃত্ব নেই যারা আগামী দুই বছরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একটি বড় ধরনের আন্দোলন করবে এবং এই দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করবে।

আর এ কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুললেও তারা আসলে তিনটি বিকল্প ভাবছে। এই তিনটি বিকল্পের যেকোনো একটি অর্জিত হলেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে বলেই একাধিক বিএনপির নেতা বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছেন।

এই তিনটি মধ্যে একটি হলো, ২০১৪ সালের মডেল। বিএনপি নেতারা বলছেন যে, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছিলেন যে, সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনকালীন সরকার, যেটিকে সর্বদলীয় সরকার বলা হয়েছিল।

বিএনপি বলছে যে, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত সকল দলের অংশগ্রহণে এরকম একটি সরকার গঠনেও সম্মত হয় তাহলে তারা নির্বাচনের বিষয়টি ভাবতে পারে।

দ্বিতীয় বিকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা। যদি শেষ পর্যন্ত সরকার সকল দলের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি না মেনে নেয় সেক্ষেত্রে তাদের সামনে দ্বিতীয় বিকল্প হলো নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা।

এসময় যে সরকার গঠিত হবে সেই সরকারে প্রধানমন্ত্রী কোন দায়িত্বে থাকবেন না এবং তার কর্মকাণ্ড সীমিত করা হবে। অন্যান্য মন্ত্রীরা রুটিন দায়িত্বে বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড পালন করবে না।

তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বিএনপি বলছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা থাকবেন তারা কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। বিএনপি মনে করছে যে, নির্বাচনকালীন সময়ে যদি আওয়ামী লীগের সরকারও থাকে এবং সেখানে যারা মন্ত্রী হিসেবে থাকবেন তারা নির্বাচনকালীন সময়ে শুধু নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন তাই নয়, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না।

অর্থাৎ আওয়ামী লীগের যে সমস্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বা মনোনয়ন পাবে না, তাদেরকে নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে হবে।

বিএনপি মনে করছে যে, এই তিনটি দাবির যদি একটিও যদি মানা যায় তাহলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তবে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর বিএনপি নেতারা অনেকটাই নির্বাচনমুখী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তারা মনে করছেন যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মধ্যে নুরুল হুদার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা নাই। তাই নতুন নির্বাচন কমিশনকে আরও পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

যদিও তারা প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার যে সিদ্ধান্তই নেয় না কেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে অতি দ্রুত। কারণ, নির্বাচনের যদি প্রস্তুতি না থাকে তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আরেকটি ২০১৮ মতো ফলাফল বরণ করতে হবে। সেজন্যই বিএনপি’র মধ্যেই এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post বিলুপ্তির পথে হেফাজত?
Next post বিএনপিতে নির্বাচনী চাপ