বিএনপিতে নির্বাচনী চাপ

বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এমনকি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পরও তারা বলেছে যে, এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।

কিন্তু সত্যি সত্যি কি বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবে না এবং এই অবস্থায় কি তারা অটুট থাকতে পারবে শেষ পর্যন্ত? রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এখনো নির্বাচনের বাকি প্রায় দুই বছর। কিন্তু এখনি আগামী নির্বাচনে যেনো বিএনপি অংশগ্রহণ করে সেজন্য দলটির উপর ভেতরে-বাইরে চাপ রয়েছে। তিন ধরনের নির্বাচনী চাপ বিএনপি অনুভব করা শুরু করেছে বলে বিএনপি’র নেতারাই স্বীকার করেছেন।

১. দলের অভ্যন্তরে চাপ: একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের শেষ গন্তব্য হলো নির্বাচন। তারা রাজনীতি করেন শেষ পর্যন্ত একটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

বিএনপিতে বহু জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন। তারা মনে করেন যে, গত নির্বাচনে যদি মনোনয়ন বাণিজ্য, একাধিক প্রার্থী দেওয়া ইত্যাদি ঘটনাগুলো না হতো তাহলে বিএনপির আরো বেশি আসনে বিজয়ী হতে পারতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি’র ভরাডুবি হয় মনোনয়ন বাণিজ্য এবং মনোনয়ন নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তি কারণে।

বিএনপি’র তৃণমূলে যারা নেতৃত্ব দেন, যারা এলাকায় রাজনীতি করেন, তারা মনে করেন যে, নির্বাচনের বিকল্প নেই। যেকোনো মূল্যে তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়।

এটা তাদের অস্তিত্বের জন্যই প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। যেমন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছিল যে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের সেই নির্দেশ তৃণমূলের নেতারা শুনেননি। তারা সতন্ত্রভাবে হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।

এমন কি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা শুনেননি বিএনপি’র আর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তৈমুর আলম খন্দকার। কাজেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নেতারা বলবেন আর সব মনোনয়ন প্রার্থীরা চুপচাপ বসে থাকবেন এটা হতে পারে না বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ যদি বড় ধরনের আন্দোলন হতো তাহলে হয়তো তারা নির্বাচন থেকে দূরে থাকতো।

কিন্তু আন্দোলন না করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার যে মানসিকতা, সেটি বিএনপি’র জন্য ইতিবাচক নয় বলেই অনেকে মনে করছেন। আর সে কারণেই নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটা বড় ধরনের চাপ আসবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে।

২. পারিপার্শ্বিক চাপ: বিএনপি’র অনেকেই মনে করেন যে, শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবে। এমনকি বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপিতে ভাঙন ধারানোরও চেষ্টা হতে পারে।

বিএনপি’র বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা জানা গেছে, তারা আশঙ্কা করছে যে, নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল ‘খেলা খেলবে’ এবং এই খেলায় বিএনপিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হবে। বিএনপি’র মধ্যে এরকম বহু ব্যক্তি আছেন যারা সরকারের ফাঁদে পা দেবেন।

সেজন্য এটিও বিএনপি’র জন্য একটি বড় চাপ। শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি নির্বাচন থেকে দূরে থাকে তাহলে দলে ভাঙনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

৩. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচন থেকে দূরে সরে থাকার দাবি সমর্থন না করা: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বা নির্বাচন থেকে দূরে সরে থাকার দাবিকে সমর্থন করে না।

বরং কূটনৈতিক মহল মনে করেন যে, বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং নির্বাচনে যদি কোনো কারচুপি হয়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করা না হয় বা সমান বিরোধী দলকে কোনো বাধা দেওয়া হয় সেটি কূটনীতিকরা দেখবে।

কিন্তু হাত-পা গুটিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে থাকলে তারা বিএনপিকে কিসের ভিত্তিতে সমর্থন দিবেন এই প্রশ্নটি কূটনীতিক অঙ্গনে তীব্র। তাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করারই পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এটির কোনো বিকল্প নেই বিএনপি’র জন্য।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিন বিকল্প নিয়ে ভাবছে বিএনপি
Next post রাশিয়াবিরোধী অবস্থানে কেন গণ অধিকার পরিষদ?