রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীরবতা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সারা বিশ্ব যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। দেশে দেশে শান্তিপ্রিয় মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি পালন করছেন। কেউ সমাবেশ করছেন, কেউ রুশ দূতাবাসের সামনে অবস্থান করছেন।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্ন দেশের তারকারা আকুতি জানাচ্ছেন। এখানে অদ্ভুত ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলই এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো রকম মন্তব্য করেননি। তাদের কোনো রকম বিবৃতিও কারো চোখে পড়েনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অত্যন্ত প্রগাঢ় সম্পর্ক ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির পর রাশিয়ার সঙ্গেও বাংলাদেশ নানা রকম অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অন্তত দু’টি বড় কাজ হচ্ছে রাশিয়ার সহায়তায়। এর মধ্যে রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে।

এরকম বাস্তবতায় সরকার পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার ব্যাপারে পক্ষে-বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করেনি, বরং সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশের অন্যপ্রধান দল বিএনপিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য বা কোনো রকম বিবৃতি দেয়নি। এমনকি রাশিয়ার আগ্রাসনের সমালোচনাও বিএনপি করেনি। বিএনপির নীরবতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো চীন। বিএনপি মনে করছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা যদি সরব থাকে, তাহলে পরে সেটি চীনের মনঃক্ষুণ্নতার কারণ হতে পারে। এ কারণেই রাশিয়ার ব্যাপারে বিএনপি কোনো রকমের বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে দূরে আছে।

বাংলাদেশের বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থক ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সোভিয়েত নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু এবারের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সিপিবি এবং বাম মোর্চার দলগুলোকে তেমন কোনো কথাবার্তা বলতে দেখা যাচ্ছে না। বাম দলগুলো সব সময় শান্তির কথা বলে। বিভিন্ন জায়গায় আগ্রাসন, যুদ্ধ হলে তারা কর্মসূচি নেয়। এবার তারা আশ্চর্য নীরবতা পালন করছে।

বাংলাদেশের মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক দলগুলো বিভিন্ন সময় যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে। বিশেষ করে কোনো মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে তারা নানা রকম কর্মসূচি পালন করে। মিছিল, বিক্ষোভ ইত্যাদি করে। এমনকি ভারতে কথিত মুসলিম নিপীড়নের অভিযোগেও তারা বড় ধরণের সহিংসতামূলক কর্মসূচি পালন করেছিল গত মার্চে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে তাদেরকে আশ্চর্য নীরব দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বের দেশগুলো মধ্যে বাংলাদেশই বোধহয় বিরল কয়েকটি দেশের একটি, যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাজনীতিতে কোনো বিভক্তি নেই এবং কোনোরকম উচ্চবাচ্য নেই। সেদিক থেকে বলা যায়, এই যুদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের যে পররাষ্ট্রনীতি, সেই নীতিই যেন সকলে মেনে নিয়েছে। অন্তত একটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post জামায়াতের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান জানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
Next post ভোটের আগে আওয়ামী লীগ যা করতে চায়