ছাত্রদলের সমাবেশে বিশৃঙ্খলা, ফখরুলের ক্ষোভ

দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে রাখার দাবিতে সমাবেশ করেছে ছাত্রদল। সমাবেশে দুপুর ১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য শুরু করার পরপরই মঞ্চের সামনে ছাত্রদলের দুই কর্মীর মধ্যে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে মঞ্চের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দেয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে মির্জা ফখরুল বক্তব্য শুরু করেন

বক্তব্যের শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এত সুশৃঙ্খল সমাবেশ। কিন্তু তোমরা তোমাদের নিজেদের ধৈর্য হারিয়ে ফেললে সেটা এই দলের জন্য ভালো হবে না, বসো। অনেকক্ষণ বক্তৃতা হয়েছে তো, আমরা সবাই বিরক্ত হয়ে পড়েছি- ঠিক কি না? তাই না?’
রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে এই ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক কর্মী এবং ঢাকা পশ্চিম ছাত্রদলের এক কর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সমাবেশের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

সমাবেশে একটা উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলনের পরিস্থিতি তুলে ধরে ফখরুল বলেন, আজকে আমার অবস্থা হয়েছে সেই রকম। সব বড় বড় শিল্পী গান করেছেন, বক্তৃতা করেছেন। এত সুন্দর বক্তব্য রেখেছেন যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন। আর আমি যখন বক্তব্য রাখতে যাচ্ছি, তখন আমি দেখছি- এখানে সবাই অস্থির হয়ে গেছেন। এখন আর কারো ধৈর্য নেই। এটাও কিন্তু একটা বিজ্ঞান? প্রত্যেক মানুষের মনোযোগ একটা বিজ্ঞান। এটা কিছুক্ষণ থাকে, তারপর আর থাকে না।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একটাই মাত্র কারণ, সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের দুর্নীতি। আজকে তারা দুর্নীতি করে ফুলেফেঁপে বড় হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে কেন? কারণ সয়াবিন তেলের যারা ব্যবসা করে তারা বেশির ভাগই হচ্ছে আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী। আজকে এই গ্যাসের দাম বাড়ছে কেন? কারণ যে এলপিজি গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করে নিয়ে আসছে, তাদের (সরকার) একমাত্র শিল্প-উপদেষ্টা এর সঙ্গে জড়িত। সুতরাং মূল্যবৃদ্ধির একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে- এই সরকারের দুর্নীতি, দুর্নীতি এবং দুর্নীতি। সেই সঙ্গে তাদের অযোগ্যতা-অপদার্থতা।

আজকে আর অন্য কোনো পথ নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা। আজকে ভয়াবহ একটি সরকার, যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে টিকে আছে- তাদেরকে সরাতে হবে। আর একটা গভীর চক্রান্ত আছে। সেই চক্রান্ত হচ্ছে, এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রেখে তারা একটা রাজতন্ত্র চালাবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মুক্ত সমাজের জন্য ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আমাদেরকে সেই মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আজকে আবার সব মানুষকে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আরো একবার মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশকে মুক্ত করতে হবে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টা থেকে ব্যানার, ফেসন্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবে সমবেত হতে শুরু করেন। মিছিল থেকে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন।

এদিকে সমাবেশ ঘিরে প্রেস ক্লাবসহ এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অতিরিক্তি পুলিশ সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post অর্থনৈতিকভাবে আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েই এগিয়ে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী
Next post নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৫ বিএসএফ সদস্য নিহত