ভোট ডাকাত সরকার এখন বাজার ডাকাতি শুরু করেছে: রিজভী

দুর্নীতির আদর্শস্থল হচ্ছে আওয়ামী লীগ মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিশিরাতে ভোট ডাকাতির সরকার এখন শেষ বেলায় এসে নিত্যপণ্যের বাজার ডাকাতি শুরু করেছে।

গতকাল শনিবার (৫ মার্চ) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত মানুষ জীবনযুদ্ধে পরাজিত সৈনিকের মতো ধুঁকে ধুঁকে চলছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী নীরবে অশ্রুপাত করছেন। অল্প দামে পণ্য বিক্রির সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের পাশে লাইনে বুভুক্ষ মানুষের মিছিল চলছে।

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, মধ্যবিত্তরা টিসিবির ট্রাকের পিছনে ছুটছে আর নিম্নবিত্ত, গরীব, অতি গরীব, দারিদ্র্য সীমার নিচের লোকজন অর্ধাহারে অনাহারে কঙ্কালসার হচ্ছে। দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ ফিরে আসবে। টিসিবির এই লাইন ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে খাদ্যের জন্য মানুষের হাহাকার আর ছোটাছুটির চিত্রের মতোই। মানুষখেকো বাঘের মতো দুর্ভিক্ষ সদর্পে সারা দেশ ছেয়ে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘আজকের দৃশ্যপট এমন যে, টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে বিবিসিকে এক মধ্যবিত্ত বলছেন, “লজ্জা করলে তো পেটে ভাত আসবে না।” আর রংপুরের তারাগঞ্জের বাজারে দাঁড়িয়ে দামের কষাঘাতে পিস্ট নিরন্ন অসহায় সাদেকুল সাংবাদিকদের বলছেন, ‘নুন দিয়া পান্তা ভাত খায়া বাঁচির নাগবে’।

আর সরকার নিজেদের সিন্ডিকেটের হাতে বাজার লুটপাটের লাইসেন্স দিয়ে সরকারের অটো ভোটের মন্ত্রীরা দ্রব্যমূল্য নিয়ে মশকরা করছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কিছুই করার নেই। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলছেন, বর্তমান সরকারের ১৩ বছরে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য খুব কমই বেড়েছে। ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে শুধুমাত্র আওয়ামী লোকদের, এ কথাটি তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেছেন। লুটেরাদের খনিতে বসে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মুখ ঢেকে টিসিবির গাড়ির পিছনে ছোটার দৃশ্য তিনি দেখতে পান না, ক্ষুধার্ত মানুষের বোবাকান্নাও শুনতে পান না।

তিনি বলেন, ‘সৈয়দ মুজতবা আলীর পাদটীকা গল্পের মতো হয়েছে তাদের অবস্থা। পণ্ডিত মশায় তার আট সদস্যের পরিবারের জীবন ধারণের জন্য মাসিক বেতন পান পঁচিশ টাকা আর সাহেবের তিন ঠ্যাঙ ওয়ালা কুত্তার জন্য মাসে খরচ হয় পঁচাত্তর টাকা। সুতরাং সর্বভুক আওয়ামী দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীদের কথা এমনই হবেই, যারা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে তাদের মুখ থেকেই এসবই শোনা যাবে। সব সম্পদ গ্রাস করে নেয়া আওয়ামী সাহেবরা যা ইচ্ছা তাই বলছেন। সব জেনে বুঝেই তারা নিশ্চিন্তে নিদ্রা যাচ্ছেন, আর জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অসত্য কথা বলছেন। মন্ত্রীদের কথাবার্তায় প্রমাণিত হয় সরকার নিজেই দুর্নীতিবাজদের একটা সিন্ডিকেট। সেই কারণেই তারা পরিশীলিত রাষ্ট্রনেতাদের মতো কথা বলেন না। হরিলুটের সরকার জনগণের ‘কালেক্টটিভ ফিউচার’ বরবাদ করছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, দেশ যেন এখন মগের মুল্লুক। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। দুর্নীতি, লুটপাট, অনাচার, অবিচার চলছে বল্গাহীন। দ্রব্যমুল্যের বাজারে আগুন লাগার ফলে জনগণের যখন নাভিশ্বাস অবস্থা তখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’য়ের মতো অসহ্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম। বাড়ানো হয়েছে গণপরিবহনের ভাড়া। মানুষ কি খাবে, কি না খাবে ? দেশে যখন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি চলছে তখন দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে প্রতিদিনের মতো ওবায়দুল কাদের সাহেব মিথ্যার ঢোল বাজিয়েই যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাতের সফর নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘দেশে চলছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। অপরদিকে সারা বিশ্বে বিরাজ করছে এক যুদ্ধাবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে ৫০ জনের এক বিশাল বহর নিয়ে নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে কি কারণে আরব আমিরাতে যাচ্ছেন এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে আরব আমিরাতে শেখ হাসিনার ঘন ঘন সফরের রহস্য কি ? আমরা আশা করি, সরকারের মন্ত্রীরা বিষয়টি জনগণের সামনে খোলাসা করবেন। গত এক যুগে শেখ হাসিনা কেন বারবার আরব আমিরাত সফর করছেন এর নেপথ্যে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কিনা সেটিও সাহস থাকলে জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত পরশু বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান ইলিয়াসকে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোন হদিস মিলছে। সে ডিবি পুলিশের কাছেই আছে, কিন্তু তারা সেটি স্বীকার করছে না। তাকে অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি সারাদেশে জেলা সদরে পালন করার সময় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এক হিংসাযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। বর্বর সরকার পেশীশক্তি দিয়ে জনগণকে দমন করতে চাচ্ছে।’

‌‌‘একই দিন সাভারে বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আহত ও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও পুলিশ আমি (রিজভী আহমেদ), নিপুণ রায় চৌধুরী, ডাঃ দেওয়ান সালাহউদ্দিন, আবু আশফাকসহ প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভূইয়া প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Next post প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল