পরশের সহধর্মিণীর নাম শেখ ফজলে নূর তাপস বাদ দিলেন কেন?

পরশের সহধর্মিণীর নাম শেখ ফজলে নূর তাপস বাদ দিলেন কেন?* *শেখ ফজলে নূর তাপস শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ছেলে। অন্যদিকে শেখ ফজলে শামস পরশ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। তারা দুজনই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দু’জন ব্যক্তিত্ব। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে ছোট ভাই তাপস এসেছিলেন আগে। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এবং এই মনোনয়ন নিয়ে ধানমন্ডি আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মূলত ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে শেখ ফজলে নূর তাপস রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসেন।

এসময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র আইনজীবীরা শেখ হাসিনার মামলা ফিরিয়ে দিলে শেখ ফজলে নূর তাপস এই মামলার দায়িত্বগুলো গ্রহণ করেন এবং তিনি অন্যান্য আইনজীবিদের নিয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রে আসেন তাপস। ২০০৯ সালের পর, পর পর তিন দফা তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

২০১৮ এর নির্বাচনের পর তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মনোনয়নের আবেদন করেন এবং এই মনোনয়ন পেয়ে তিনি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে তার কোনো রকম কালিমা নেই। তার বিরুদ্ধে নেই কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পর্যন্ত। অন্যদিকে পরশ রাজনীতিবিমুখ ছিলেন। শিক্ষকতা করতেন এবং রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন। কিন্তু যুবলীগের যখন ক্যাসিনো বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য নিয়ে টালমাটাল, সেই সময় যুবলীগের কংগ্রেস করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এই কংগ্রেসের মাধ্যমেই পরশ যুবলীগের চেয়ারম্যান হন। এর ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মনি পরিবারের দুই সন্তান গুরুত্বপূর্ণ দুটি দায়িত্ব পেলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই ভাইয়ের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের গুঞ্জন চলছে বিভিন্ন মহলে। তাপস এবং পরশ দুজনই অল্প বয়সে মা-বাবা হারিয়েছেন। কঠিন যন্ত্রণাবৃদ্ধ অবস্থায় কষ্টের মধ্য দিয়ে তারা সত্তিকারের মানুষ হয়েছেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েনের গুঞ্জন আসছে কেনো? এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়া মেনে জমা দেওয়া হলেও সেই মনোনয়নপত্র দলীয় বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। নাহিদ সুলতানা যুথি শেখ ফজলে শামস পরশের সহধর্মীনি। তিনি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এ নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে। মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য সচিব সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস যিনি পরশের ছোট ভাই।

নাহিদ সুলতানা যুথি অভিযোগ করেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলে বিভিন্ন পদ অনুযায়ী লিস্ট করা হয় এবং মনোনয়ন বোর্ড সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই লিস্টে সম্পাদক প্রার্থী নামের তালিকার মধ্যে আমার নামটি কলম দিয়ে কাটা ছিল।এ প্রসঙ্গে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং নাম বাদ বলে জানান।

যুথি আরও অভিযোগ করেছেন, কোনো প্রকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দুরভিসন্ধিমূলক এবং বিতর্কিত ভাবে আমার নাম দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা না দিয়ে বাদ দেওয়া হয়। এই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, পরশের সহধর্মিণীর নাম শেখ ফজলে নূর তাপস বাদ দিলেন কেন?

এটা কি দুই ভাইয়ের সম্পর্কের অস্বস্তির প্রকাশ? কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। পরশ এবং তাপস দু’জনই রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ এবং একটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তারা এই জায়গায় এসেছেন। এ ধরনের ছোটখাটো পারিবারিক বিরোধ দুই ভাইয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রকম টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে না বলেই তাপস এবং পরশের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ইউক্রেনের শিশুদের জন্য সহায়তা চাইলেন প্রিয়াঙ্কা
Next post র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রে তৎপর মোমেন