এ দেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে তাদের পবিত্র ভোটাধিকার রক্ষা করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভোটচোরদের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এ দেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে তাদের পবিত্র ভোটাধিকার রক্ষা করবে।

তিনি বলেছেন, জনগণের ভোট চুরি করে যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদেরকে এ জাতি আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভরছে। এই চোরদের বিতাড়িত করতে হবে। আগামীতে বিএনপি ভোটের মাঠে থাকবে। চোরের মাঠে থাকবে না।

বুধবার মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দুর্নীতি।

জনগণের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার কারণে বর্তমান সরকারকে ভোটচোর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারসহ যারা ভোটচোরের সহযোগিতা করেছেন তারাও ভোটচোর। আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে বিএনপিসহ সারা দেশের মানুষের দাবি – শেখ হাসিনার পরিবর্তে নিরপেক্ষ সরকার, ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপার। আগামী নির্বাচনের আগেই ইভিএমকে সাগরে নিক্ষেপ করা হবে।

বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আগামীতে ১৪৪ ধারা হোক, ১৪৫ ধারা হোক, কোন ধারা দিয়েই বিএনপিকে আটকিয়ে রাখতে পারবে না। আগামীতে কোনো বাধাই মানবে না বিএনপি। আগামীতে কোনো সভা-সমাবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবে না। জনগণের জোয়ার এই অবৈধ সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করে যতই নির্বাচন কমিশনার হোক না কেন, বিএনপি আগামীতে নিরপেক্ষ ও তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া এদেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দিবে না।

তিনি আরো বলেন, এই অবৈধ সরকার জনগণ দেখে ভয় পায় বলেই সভা-সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। আগামী নির্বাচনের আগেই বিএনপি নেতাকর্মীদের তিনি প্রস্তুত হতে বলেন। সকল বাধা ভেঙ্গে বিএনপি দাবি আদায় করা হবে। এদেশের মানুষ দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। এক ভাগ চোরের পক্ষে আর সারা দেশের মানুষ বিএনপির পক্ষে। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চোরদের ধরতে হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, সরকারের মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট, বিদ্যুকেন্দ্রে লুটপাট ও সরকারি দলের চাঁদাবাজির কারণে আজ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। তারা শুধু সরকারি তহবিল লুটপাট করছে না, তারা ভোটের নামে ভোটচুরি করছে ও মানুষের পকেট চুরি করছে। এদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। আর তা করা হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। বিএনপি ভোটের মাঠে থেকে ভোটচোরদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার থাকুক আর না থাকুক বিএনপি কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন করতে দিবে না। সংবিধানে সভা সমাবেশের অধিকার আছে। কিন্তু যারা সভা সমাবেশের করতে বাঁধা দিচ্ছেন। তারা সংবিধান লংঘন করছেন। আপনাদের বুঝতে হবে হাওয়া কোন দিকে বইছে। যে সুনামী আসছে যে তুফান আসছে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। আমাদের শপথ নিতে জীবনের বিনিময় হলেও আগামী নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধিন ছাড়া করতে দিবো না। এই সময় কঠিন সময়, আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সংগ্রাম কঠিন সংগ্রাম, এই সংগ্রাম বিএনপির একার সংগ্রাম নয়, এই সংগ্রাম জনগনের সংগ্রাম।

বিদ্যুৎ,গ্যাস, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজ খান রিতার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জুয়েল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক জেলা আহ্বায়ক ও মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি জামিলুর রশিদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, গোলাম আবেদীন কায়ছার, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post শেখ হাসিনার অধীনে আর নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।
Next post আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি