মরদেহের সঙ্গে যৌনাচার: সেই পাহারাদারের ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

মর্গে দুই নারীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগে গ্রেফতার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাহারাদার মো. সেলিমের (৪৮) সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১ মার্চ) সকালে সেলিমকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। এর আগে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চমেক হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাকে পাঁচলাইশ থানায় সোপর্দ করা হয়।

এর আগে তার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগে মামলা করেন সিআইডির চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃঞ্চ কমল ভৌমিক। গ্রেফতার সেলিম কুমিল্লার লাকসাম থানার সাতেশ্বর গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে।

সিআইডি জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির কোন এক রাতে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ আসে চমেক হাসপাতালের মর্গে। একইভাবে পরের এপ্রিল মাসেও রাত আড়াইটার দিকে আরেক নারীর মরদেহ আসে মর্গে। কাকতালীয়ভাবে দুই নারীর ময়নাতদন্তে সংগৃহীত এইচভিএসে (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) মিলেছে একই পুরুষের বীর্য। অথচ দুই মরদেহের সুরতহাল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত ছিল না। পরবর্তীসময়ে এ ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে প্রায় এক বছর পর সেলিমকে শনাক্ত করে সিআইডি। তার ডিএনএ টেস্ট করে সেলিমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার দিকে চমেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সেলিম ওই দুই নারীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনকর্ম করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিআইডির হাতে গ্রেফতারের পর পাহারাদার সেলিমকে থানা হেফাজতে দেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post বেঁচে থাকার নিশ্বাস নিতে মানুষ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়
Next post ইইউতে যোগ দেওয়ার ইউক্রেনের আবেদন গ্রহণ করেছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট।