বিএনপি একটি বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক দল। পক্ষান্তরে, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই মুহূর্তে দেশের একমাত্র সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। গতকাল সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন এবং সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদারসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ। তিনি বলেন, দল করলে দলের নিয়ম মেনে চলতে হবে। অনিয়ম করে দলের মনোনয়ন দেয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা চিরদিনের জন্য কাউকে নেতৃত্ব ইজারা দেয়নি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র নেতা কে?

এমন প্রশ্ন রেখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আবারো বিএনপি নেতাদের স্মরণ করে দিয়ে বলেন, তাদের দুই শীর্ষ নেতা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, আইন অনুযায়ী তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, তাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন বিএনপি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে ষড়যন্ত্র করে চলেছে।

ত্যাগী নেতারা আওয়ামী লীগের আস্থার ঠিকানা দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল-কলহ দূর করে এখন থেকেই আগামী নির্বাচনের জন্য নেতা তৈরি করতে হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। ত্যাগী নেতাদের দলে কোণঠাসা করে না রাখতে দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পকেট ভারী করার জন্য লোক সৃষ্টি করা যাবে না, দুঃসময়ের কর্মীরাই দলের আসল বন্ধু। গত নির্বাচনের চেয়ে আগামী নির্বাচনে আরও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাই এখন থেকেই শতভাগ প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিপক্ষকে দুর্বল না ভাবতে নেতাকর্মীদের স্মরণ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্র চলছে। তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগকে হারাতে চেষ্টা করবে, সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৮ই জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক এই সম্মেলনে সভাপতি পদে ৪ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন প্রার্থী হয়েছেন। সভাপতি প্রার্থীরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট কে. এম হোসেন আলী হাসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, দলের সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জজ কোর্টের পিপি গাজী আব্দুর রহমান, সহ-সভাপতি এডভোকেট বিমল কুমার দাশ। এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুস ছামাদ তালুকদার, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শামছুজ্জামান আলো, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফারুক ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post আওয়ামী লীগের ব্যানার ভাইরাল!
Next post মঙ্গলগ্রহের কোনো প্রাণীকে সিইসি বানালে খুশি হতো বিএনপি : কৃষিমন্ত্রী