বিএনপি নির্বাচনে যাবে, তবে…

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি ২ বছরেরও কম সময়। বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা কোনো নির্বাচনে যাবে না। এমনকি নির্বাচন কমিশন গঠনের যে প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই প্রক্রিয়াতেও বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। তার রাষ্ট্রপতির সংলাপে যায়নি।

অনুসন্ধান কমিটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা সার্চ কমিটির কাছে কোনো নামও জমা দেয়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশনকে সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি নেতারা। তারা বলেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছাড়া তারা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।

বিএনপি’র এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি’র শীর্ষ দুই নেতা যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, এজন্য তারা নির্বাচনে অনাগ্রহী।

কিন্তু বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে দেখা গেছে যে, বিএনপি মুখে যতই নির্বাচনে যাবে না বলছে, বাস্তবের অবস্থার তেমনটি নয়। বরং বাস্তবের বিএনপি নির্বাচনের লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং আগামী নির্বাচনের আগেই বিএনপি তাদের সংগঠন গোছানো এবং প্রার্থী ঠিক করার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

যদিও এ সম্পর্কে বিএনপি নেতাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলছেন যে, তারা আশাবাদী যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তারা আদায় করতে পারবেন। এ লক্ষ্যেই তারা আন্দোলন এবং নির্বাচন দুটি কাজই একসঙ্গে করছেন।

তবে বিএনপি’র একাধিক সূত্র বলছে যে, শেষ পর্যন্ত হয়তো বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে না এবং এটি বিএনপিতে একটি বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি করবে। বিএনপি’র একটি বড় অংশই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় এবং আগামী নির্বাচনটাকে বিএনপি নেতারা অস্তিত্বের সংকট বলে মনে করছেন।

বিএনপি’র অনেক নেতাই মনে করেন যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করতো তাহলে দলের এই পরিস্থিতি হতো না। এবার যেমন যে ছয়জন সদস্য সংসদে আছে, তারা থাকার কারণে বিএনপি অনেকগুলো কথা বলতে পারছে এবং সংসদে সরকারের সমালোচনা করা যাচ্ছে।

একইভাবে বিএনপি’র নেতারা এটাও মনে করেন যে, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে স্বতন্ত্রভাবে বিএনপি জয়ী হওয়ার ফলে সংগঠনই শেষ বিচারে লাভবান হয়েছে। আর এইসব বিবেচনায় রেখেই বিএনপি মনে করছে যে, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা এতো সহজ ব্যাপার হবে না।

এবার লন্ডন থেকে কোনো বার্তা আসলেই বিএনপি’র সব নেতা নির্বাচন থেকে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং সেই নির্দেশ অমান্য করেই বিএনপি হয়তো নির্বাচনমুখী হবে।

বিএনপি’র দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপি’র মধ্যে একটা শক্ত মেরুকরণ চলছে। বিশেষ করে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে বিএনপিতে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ক্রমশ পুঞ্জিভূত হচ্ছে।

তার স্বেচ্ছাচারিতা এবং সৈরাতান্ত্রিকভাবে দল পরিচালনার বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ নেতারা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি ক্ষুব্ধ দলের কর্মীরাও। আর একারণেই শেষ পর্যন্ত তারেক জিয়াকে বাদ দিয়েই হয়তো বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি কিভাবে যাবে সেটি বুঝতে গেলে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ভোটের আগে আওয়ামী লীগ যা করতে চায়
Next post বহুমুখী সংকটে বিএনপি