রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি: নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করেই প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন দূতাবাস আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে।

যদিও মার্কিন দূতাবাসের একজন বাঙালি কর্মকর্তা বলেছেন, এটি তাদের একটি রুটিন ওয়ার্ক। যেহেতু একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে, সেজন্য নির্বাচন কমিশন গঠন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে।

সেই যোগাযোগের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তারা চা চক্রে মিলিত হন। কিন্তু আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির বাইরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে কি এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তির উত্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে কিনা এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে যে সমস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে, তারা চা-চক্রে মিলিত হচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১. গণঅধিকার পরিষদের নেতা রেজা কিবরিয়া এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর: এদের সঙ্গে গত একমাসে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে এবং রেজা কিবরিয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে কথা বলছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ করে এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২. কল্যাণ পার্টির নেতা মেজর জেনারেল ইব্রাহিম: মেজর জেনারেল ইব্রাহিমের সঙ্গেও সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে এবং বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে মোহাম্মদ ইব্রাহিম রাজনীতিতে বেশ সরব ভূমিকা পালন করেছিলেন কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নীরবতা পালন করলেও কূটনৈতিক মহলে তার যোগাযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে বলেই বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৩. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এলডিপির নেতা। তিনি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা নেতাও বটে। বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা কারণে আলোচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তার সাথে কূটনীতিক অঙ্গনে যোগাযোগ বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৪. মাহমুদুর রহমান মান্না: মাহমুদুর রহমান মান্না নাগরিক ঐক্যের নেতা। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে ইদানীং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একদা বাম এই নেতার যোগাযোগ বেড়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নানারকম মেরুকরণের চেষ্টা করছে, নানা রকম কৌশলের খেলাও চলছে। আর সেইসব মেরুকরণ বা কৌশল এর খেলায় রাজনীতিতে একটি তৃতীয় ধারা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র বাইরে একটি তৃতীয় ধারা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

কিন্তু সে চেষ্টাগুলো কখনোই তেমন সফল হয়নি। এখন আবার নতুন করে কূটনীতিকদের এই তৎপরতায় আবার প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি বাংলাদেশে তৃতীয় কোন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে? বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ সরকারের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, সেই সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই তৎপরতা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post বাংলাদেশে কে নিকৃষ্ট সিইসি?
Next post মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংক