রাজনীতিতে আবার তৃতীয় শক্তি!

আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে রাজনীতিতে একটি তৃতীয় ধারার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই। বিভিন্ন সময় সামরিক সরকারগুলো ক্ষমতায় এসে এ ধরণের তৃতীয় ধারা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল।

অনির্বাচিত সরকারের তত্ত্বাবধানে কিংস পার্টি গঠনের উদ্যোগও আমাদের রাজনীতিতে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তিকে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টাগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এসে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে জাতীয় পার্টিকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে তৈরির চেষ্টা করেন। কিন্তু জাতীয় পার্টি এখন তৃতীয় শক্তি নয়, বরং জাতীয় পার্টি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপির লেজুর হিসেবেই কাজ করছে। এরশাদের পতনের পর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে আবার আরেকটি ধারা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।

কিন্তু সেটি গণফোরামের মাধ্যমে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করেছিলেন। এটিকে অনেকে রাজনীতির তৃতীয় শক্তির ‍উত্থান বলে মনে করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারেনি।

এরপর ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দিয়ে রাজনৈতিক তৃতীয় ধারা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। সেই উদ্যোগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সেনা সমর্থিত ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারও ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী’কে দিয়ে তৃতীয় শক্তি উত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টাও বিফলে যায়।

এখন আবার গণ অধিকার পরিষদের ব্যানারে রেজা কিবরিয়াকে দিয়ে রাজনীতির তৃতীয় ধারার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গণ অধিকার পরিষদে শুধু রেজা কিবরিয়া একা না, আরও কয়েকজন ব্যক্তি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ক্রমশ বিভিন্নভাবে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রাজনীতিতে যারা বিভিন্ন সময় তৃতীয় শক্তি উত্থানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা এখন একত্রিত হচ্ছেন, এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। রেজা কিবরিয়ার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এখন কাজ করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতাকে তিনি ব্যবহার করে রেজা কিবরিয়া এবং তার দল সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলার চেষ্টা করছেন। রেজা কিবরিয়ার এই উদ্যোগ যেন সফল হয়, এ জন্য নেপথ্যে এক ধরণের লবিস্ট হিসেবে কাজ করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এছাড়াও বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি অংশের গণ অধিকার পরিষদ এবং রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তির যেন উত্থান হয়, সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, রয়েছেন সাবেক দু’একজন আমলা এবং বুদ্ধিজীবী। এছাড়াও দেশের শীর্ষ স্থানীয় দুইটি দৈনিকও এই তৃতীয় শক্তির উত্থানকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন।

এদের লক্ষ্য আগামী নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের আগেই রাজনীতিতে যেন একটি মেরুকরণ ঘটে এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে যেন একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, সেই উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে এখানে রেজা কিবরিয়া থাকলেও এর পেছনে বিভিন্ন মহল রয়েছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংক
Next post চামচা দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে তা হবে হতাশাজনক: জিএম কাদের