সক্রিয় হচ্ছেন বেগম জিয়া

দীর্ঘদিন ধরে কারাবাস এবং অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে প্রায় নিষ্ক্রিয় বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারান্তরীণ হন।

এরপর ২০২০ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুকম্পায় তিনি বিশেষ বিবেচনায় জামিন পান এবং তারপর থেকে এখন তিনি প্রায় দু’বছর জামিনেই রয়েছেন। এই জামিন থাকা অবস্থাতেও তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মোটেও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।

বরং এই সময়ে অসুস্থতাজনিত কারণে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা সংকটাপন্ন বলেও বিএনপি’র বিভিন্ন নেতারা দাবি করেছেন। কিন্তু ৮৩ দিন হাসপাতালে থাকার পর এখন বাড়িতে বসবাস করছেন।

আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা অনেক ভালো। ইতিমধ্যে তার নাতনী তাকে দেখে গেছেন। লন্ডনপ্রবাসী পুত্র ও পুত্রবধু এবং নাতনী সাথে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কথা বলছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি’র কিছু কিছু ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরাই জানিয়েছেন। যদিও এখনও করোনার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দেন না। শুধুমাত্র তার নিকট পরিজন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাই বাড়িতে আসতে পারেন।

তবে ইদানিং বেগম খালেদা জিয়া টেলিফোনে বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, এমন নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়। তবে দলের মহাসচিব নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ অন্তত তিনজন নেতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার এখন নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠতম নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সমস্ত নেতাদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক যোগাযোগ বিএনপিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিএনপি থেকে একের পর এক বিভিন্ন নেতাকে বহিষ্কার করা হচ্ছে, এটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি বেগম খালেদা জিয়া।

বেগম খালেদা জিয়া মনে করছেন যে, এই সংকটের সময় দলের নেতাদের এভাবে বহিষ্কার করাটা সঠিক হয়নি। বেগম খালেদা জিয়া’র অবশ্য এই অবস্থান এখন না, তার রজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময় তিনি বহিষ্কারবিরোধী একটি অবস্থানে ছিলেন।

এমনকি ওয়ান-ইলেভেনে যারা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, তাদেরকেও তিনি শেষ পর্যন্ত দলে টেনে নিয়ে এসেছেন। আর এই কারণেই বিএনপিতে তিনি ঐক্যের প্রতীক হয়ে আছেন।

বিএনপি’র একাধিক নেতারা মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কথায় কথায় বিভিন্ন নেতাদেরকে বহিষ্কারের পক্ষে নন। আর এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার তীব্র মতবিরোধের খবরও নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন যে, এখন রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়। দলে শুদ্ধি অভিযান বা বহিষ্কার করার সময় নয়। এ ধরনের বহিষ্কার দলকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও তারা মনে করেন।

এই মতামতের সঙ্গে একমত বেগম খালেদা জিয়াও বলে বিএনপি’র অন্তত দুজন নেতা জানিয়েছেন। যাদেরকে বহিষ্কার করা হচ্ছে, তারা সবাই বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে তৈমূর আলম খন্দকারের বহিষ্কারের বিষয়টি বেগম খালেদা জিয়া মেনে নিতে পারেননি বলেই তার ঘনিষ্ঠদেরকে জানিয়েছেন।

আর এই নিয়ে তার মধ্যে অসন্তোষ গোপন থাকেনি। সবকিছু মিলিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে এখন দল পরিচালিত হচ্ছে তাতে সন্তুষ্ট নন। আর এ কারণেই তিনি আস্তে আস্তে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন।

তবে বেগম জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। আর সে কারণেই তার আপাতত পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সামনে আসছে যারা
Next post বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ: বাংলাদেশ কোন দিকে?