আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সামনে আসছে যারা

প্রতি বছর আওয়ামী লীগ যে কাউন্সিল করছে এটি মোটামুটি নিশ্চিত। অন্তত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাউন্সিল নিয়ে এক ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

সাধারন সম্পাদকের বাইরেও এবার আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা নেতৃত্বে সামনের কাতারে চলে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন এবং দলের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন।

এদের অন্তত একজন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। তার পদোন্নতি হবে। অন্যরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসবেন এবং দল পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা সামনে আসবেন তাদের মধ্যে রয়েছেন,

১. শেখ ফজলে নূর তাপস: শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকার ধানমন্ডি আসনের তিনবারের এমপি ছিলেন। তারপর তিনি পদত্যাগ করেন এবং পদত্যাগের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কেন্দ্রীয় নেতা নয়। কিন্তু ক্রমশই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তাকে আগামী দিনের নেতা মনে করছেন অনেক আওয়ামী লীগের কর্মীরা এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এগিয়ে থাকায় তিনি আগামীবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

২. মির্জা আজম: মির্জা আজম আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন। তিনি ছয়বারের এমপি। জামালপুরের একক নেতায় পরিণত হয়েছেন এবং এখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও তিনি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আগামী কাউন্সিলে তার একটা উত্থান হতে পারে। অনেকেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতের সাধারণ সম্পাদক মনে করেন মির্জা আজমকে। তবে সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে তিনি এ দফা না থাকলেও তিনি যে আগামীতে সামনের কাতারের নেতা হিসেবে আসছেন এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

৩. নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন: চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন। তিনি একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ছয়বারের এমপি ছিলেন। এখন তিনি সংসদীয় দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তিনি তেমন কোনো ভূমিকা রাখেননি। এবার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃত্বে তার অভিষেক ঘটতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। অনেকের ধারণা যে, তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে পারেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ যখন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে তখন নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের মতো নেতৃত্বে প্রয়োজন আছে বলেই অনেকে মনে করছেন।

৪. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, সেই মন্ত্রিসভায় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়নি। আওয়ামী লীগের দল এবং সংগঠনকে আলাদা করার কৌশলের কারণে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছেন। তবে গত কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে চমক হিসেবে তিনি আসতে পারেন এমন গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আগামীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো ব্যাপক বিস্তৃত সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করার জন্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সামনের কাতারে আসাটা অসম্ভব কিছু না।

৫. এ কে এম এনামুল হক শামীম: এনামুল হক শামীম ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে মন্ত্রিত্ব চেয়ে সাংগঠনিক কাজেই তার দক্ষতা বেশি বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। আগামী দিনে এনামুল হক শামীম যদি নেতৃত্বে সামনের দিকে আসেন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
আওয়ামী লীগ

সাধারণ সম্পাদ

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post নতুন ইসি: কে হলে কি হবে?
Next post ভারত মিশনে কি পেল আওয়ামী লীগ?