নতুন ইসি: কে হলে কি হবে?

সারাদেশ রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করছে নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য। নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি ইতিমধ্যে ১০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। আগামীকাল এই অনুসন্ধান কমিটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করবে এবং সেখানেই দশজনের খামবন্দী তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করবে।

এই তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি পাঁচ জনকে চূড়ান্ত করবেন। এদের মধ্যে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। অন্য চারজনকে নির্বাচন কমিশনার করা হবে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, এবার নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যেন কোনো বিতর্ক না হয়, সে জন্য সার্চ কমিটি যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরকেই নির্বাচন কমিশনে রাখা হচ্ছে বলে অনুসন্ধান কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন নির্বাচন কমিশনে কে থাকছেন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে হচ্ছেন এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে কে হলে কি প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে সে নিয়েও বিভিন্ন রকম কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে।

বিএনপি যদিও বলেছে, আরেকটি হুদা কমিশনের মতোই হতে যাচ্ছে নতুন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে যে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের দিকেই এগুচ্ছে। এমন একজন ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হবে, যার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

আর এই বিবেচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ৩ জন। এদের মধ্যে একজন হলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব হাবিবুল আউয়াল এবং সাবেক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক।

তবে এই তিনজনের মধ্যে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ছাড়া ওই দুইজন হলে বিএনপি তীব্র আপত্তি জানাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপি’র বিভিন্ন নেতার সঙ্গে আনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে জানা গেছে তারা এখন নির্বাচন কমিশনে কারা আসছেন এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিএনপি’র একজন নেতা বলছেন যে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পরই তারা আন্দোলনের একটি চূড়ান্ত রূপকল্প আঁকবেন এবং সেই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে তারা সাথে নেবেন। আর এজন্য তারা দেখতে চাইছেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র একজন নেতা বলেছেন যে, শেষ পর্যন্ত যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া হন, তাহলে তারা এ নিয়ে খুব একটা হইচই করবেন না। একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন। বিএনপি’র অনেকের কাছেই মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া গ্রহণযোগ্য। কিন্তু হাবিবুল আউয়াল বা ড. সাদিক যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন, তাহলে তারা বিএনপি’র পক্ষ থেকে জোড় আপত্তি হবে বলেই বলা হচ্ছে।

হাবিবুল আউয়াল একজন সৎ এবং দক্ষ আমলা হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু তার পিতা ছিলেন জেলহত্যা মামলার বাদী। এই বিবেচনা থেকে বিএনপি হয়তো তার ব্যাপারে আপত্তি জানাতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো মনে করছে। অন্যদিকে, মোহাম্মদ সাদিক যেহেতু এই সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, সেজন্য তিনি সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন। তবে এই তিনজনের মধ্যে যে কেউ হলে তা যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ পশ্চিমা দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশ মনে করছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে এই যে তিনজনের নাম আলোচিত হচ্ছে তারা সবাই অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং কর্মজীবনে মেধার পরিচয় রেখেছেন। তবে হুদার মতো যে কেউ এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন না সেটি বলাই বাহুল্য।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ভারত সফরে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারাও
Next post আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সামনে আসছে যারা