মাদক উৎসবের প্রচারণায় প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গোষ্ঠী

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে। তাদের পত্রিকায় প্রায়ই মাদকের বিরুদ্ধে নানা রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই পত্রিকা দুটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান চরকি এখন মাদক প্রচারণার উৎসবে নেমেছে।

গত বছরের ১২ জুলাই ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চরকির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে মাদকের বিস্তৃতি ঘটানো, তরুণ যুবকদের মাদকাসক্তিতে আকৃষ্ট করা এবং বিভিন্নমুখী মাদক সম্পর্কে তরুণদেরকে অবহিত করা এবং তাদেরকে উসকে দেওয়া। ট্রান্সকমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হলো প্রথম আলো, ডেইলি স্টার।

আর ট্রান্সকমেরই আরেকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে চরকি। চরকির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়েছে রেদওয়ান রনিকে। যিনি প্রথম আলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রথম আলোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রামাণ্যচিত্র তিনি বানিয়েছিলেন। কাজেই প্রথম আলো, ডেইলি স্টার গোষ্ঠীর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় চরকি।

চরকি একটি ওটিটি প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মটি কার অনুমতি নিয়ে কিভাবে এলো, সেটি একটি গুরুতর প্রশ্ন। এ ব্যাপারে কোনো আইন নেই এবং কোনো আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই এই ওটিটি প্লাটফর্মটি বাজারে এসেছে। এখন চরকিতে পয়সা দিয়ে মানুষকে সিনেমা দেখতে হয়। নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজন প্রাইমের আদলেই এই ওটিটি প্লাটফর্মটিকে সাজানো হয়েছে।

চরকিতে এখন পর্যন্ত যে সমস্ত কন্টেন্টগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে, তার সবগুলোকেই ড্রাগ প্রমোশনাল হিসেবে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ চরকির আলোচিত কন্টেন্টের মধ্যে রয়েছে মো. তাওকীর ইসলামের‘শাটিকাপ’, যেটি রাজশাহী অঞ্চলের মাদক চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসাকে ঘিরে নির্মিত। এই শাটিকাপের ভাষা অশ্লীল, অশ্রাব্য এবং এখানে বিভিন্ন ধরণের মাদকের পসার বসানো হয়েছে এবং মাদকে যেন তরুণ সমাজ উৎসাহিত হয় সেটি প্রচ্ছন্নভাবে প্রচারণা করা হয়েছে।

রায়হান রাফির ‘টান’ একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। একটি চলচ্চিত্র সিনেমা হলে মুক্তি দিতে গেলে ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের অনুমতি লাগে। কিন্তু প্রথম আলো, ডেইলি স্টার গোষ্ঠীর জন্য সবকিছুই যেন আলাদা। তারা সিনেমা বানাবে এবং সেই সিনেমা ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই চরকিতে প্রকাশিত হচ্ছে। টান ছবিতে মাদকের এক বীভৎস উৎসব দেখানো হয়েছে।

সেখানে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতা সিয়ামকে একজন মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে আরও উদ্ভাসিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

একই ভাবে ‘মরীচিকা’ গল্পটিও বিতর্কিত যেখানে ছাত্রদলের সাবেক নেতা গোলাম ফারুক অভীর সঙ্গে তিন্নির প্রেম এবং তিন্নির মৃত্যুকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে। এখানেও মাদকের ছড়াছড়ি এবং একটি বিচারাধীন মামলাকে ভুল খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা রয়েছে।

এভাবে খুঁজে দেখলে দেখা যায় যে, ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’, ‘রেড রাম’সহ যে কয়টি কন্টেন্ট চর্কিতে প্রকাশিত হচ্ছে, তার সবগুলোই হলো মাদককে উৎসাহিত করা, তরুণদেরকে মাদকের পথে নিয়ে যাওয়া।

সম্প্রতি মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, মাদক প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। আর অন্যদিকে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেছেন, মাদক বন্ধের জন্য যা কিছু করা দরকার তিনি তাই করতে চান। কিন্তু সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার গোষ্ঠী চরকির মাধ্যমে মাদক ব্যবসার এক রমরমা বাজার বানাচ্ছে বাংলাদেশকে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ভারত সফরে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারাও
Next post আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সামনে আসছে যারা