ভারত সফরে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারাও

আওয়ামী লীগের তিনজন হেভিওয়েট নেতা যখন ভারতে, তখন বিএনপি’র কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা যেমন চিকিৎসার কথা বলে ভারতে যাচ্ছেন, একই অবস্থা বিএনপি নেতাদের ক্ষেত্রেও।

বিএনপি নেতারাও চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিএনপি’র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপি’র যে সমস্ত নেতাদের ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার পুত্র তাবিথ আউয়াল। এরা কবে ভারত যাবেন তা নিশ্চিত নয়। তবে খুব শিগগিরই তাদের ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগের নেতারা দেশে ফেরার পরই বিএনপি নেতাদের ভারতে যাওয়ার পালা শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ এর নির্বাচনের আগেও বিএনপি’র হেভিওয়েট নেতারা ভারতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বিজেপির বিভিন্ন থিংক ট্যাংঙ্কের সঙ্গে কথা বলেছিল।

তবে এবার আওয়ামী লীগের নেতাদের সফরের পর পরই বিএনপি নেতাদের ভারত সফর অন্য কোনো রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে কিনা সে নিয়ে আলোচনা চলছে। কারণ এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০১৮ এর পথে যাবে না বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

বিএনপি’র নেতারা বলছেন যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এরকম বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কিনা সে নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে।

কিন্তু এই সংশয়ের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন মৃতপ্রায়। দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচনে সমস্ত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। বিএনপিও অংশগ্রহণ করবে।

বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, আগামী নির্বাচন যেনো অংশগ্রহণমূলক হয়, অবাধ সুষ্ঠু হয়, সেজন্য ভারত মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে। এখন দুই পক্ষকে নির্বাচনের মাঠে আনানোর জন্যই কি দুই প্রধান দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ভারত সফর করছেন?

নাকি প্রতিবার নির্বাচনে দেখা যায় যে, ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। সেই জন্য আওয়ামী লীগ বিএনপি উভয় দলই কি ভারতের সমর্থন এবং সহানুভূতি আদায়ের জন্য ভারত সফর করছেন?

নাকি এই সফর শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা চমক সৃষ্টির জন্য এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। ২০১৮ তে বিএনপি’র নেতারা যে ভারত সফর করেছিল, সেখানে বিএনপি নেতাদেরকে সুস্পষ্ট কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই শর্তগুলো মানে নি। এসব শর্তের মধ্যে ছিল,

১. জামায়াতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়া।
২. তারেক জিয়ার নেতৃত্বে না থাকা।
৩. কোনো বিতর্কিত মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেওয়া।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিষয়গুলোর দিকে কর্ণপাত করেনি বিএনপি। এখন আবার বিএনপি নেতারা ভারতে সফরে যাচ্ছেন। এটি কি আওয়ামী লীগের নেতাদের সফরের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যই? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post দেশ ছাড়বেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
Next post মাদক উৎসবের প্রচারণায় প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গোষ্ঠী