দেশ ছাড়বেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। প্রথম দিনেই ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলার মুখে পড়েছে ইউরোপের কোনো দেশ। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ২০ মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছেন রুশ সেনারা। কিয়েভের বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এত উত্তেজনার মধ্যেও রাজধানী কিয়েভেই থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর রয়টার্স ও এনডিটিভির।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আমি ইউক্রেনেই আছি, যদিও রাশিয়ার প্রধান টার্গেট আমি।

জীবনের হুমকি নিয়েও ইউক্রেন ছাড়েননি জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি রাজধানীতেই আছি। আমার পরিবারও এখানে। আমার সন্তানরাও দেশেই রয়েছে। আমার পরিবার বিশ্বাসঘাতক নয়। তারা সবাই ইউক্রেনের নাগরিক। আমরা পালাব না। আমরা ভীত নই। আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে আমিই রাশিয়ার প্রধান টার্গেট। আমার পরিবার দুই নম্বর টার্গেট। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে তারা ইউক্রেনকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে চায়।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর রাশিয়া স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজধানী কিয়েভের উত্তরাঞ্চলীয় একটি বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ নিতে তীব্র লড়াই চলছে ইউক্রেন ও রুশ বাহিনীর মধ্যে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গোস্তোমেল বিমানঘাঁটির ওপর দিয়ে একাধিক রুশ হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা গেছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি জানিয়েছেন, লড়াই অব্যাহত আছে।

বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে কেঁপে ওঠা বড় বড় শহরের আনুমানিক এক লাখ লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন; কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুরও খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে কিয়েভ দখল করা এবং দেশটির পশ্চিমাপন্থি সরকারকে উৎখাত করা।

প্রায় সাড়ে ৪ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইউক্রেন আয়তন বিবেচনায় রাশিয়ার পরই ইউরোপের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় প্রজাতন্ত্রটির জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিল; গত কয়েক বছর ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করে, যা পুতিনের রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করে।

ইউক্রেনের ওপর হামলা ‘আসন্ন’ এবং রাশিয়া তাদের দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে জানিয়ে উপগ্রহের ছবি প্রকাশ করে পশ্চিমা দেশেগুলো বারবার সতর্ক করে এলেও পুতিন বেশ কয়েক মাস ধরেই ‘ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনার’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার দেশটিতে হঠাৎ হামলা চালায় রাশিয়া। শুক্রবার ইউক্রেনের বড় বড় স্থাপনায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে কিয়েভে আরেকটি রুশ বিমান ভূপাতিত করার খবরও পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post আত্মসমর্পণ না করে মৃত্যুকে বেছে নিল ইউক্রেনের ১৩ সেনা
Next post রাশিয়াকে থামাতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র