শামীম ওসমান কি আসছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে?

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত নেতা শামীম ওসমানকে নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে আসা হবে। আর এজন্য সান্তনা পুরস্কার হিসেবে তাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা হতে পারে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের সময় থেকেই এই নিয়ে আলোচনা ছিল। সেই সময় আওয়ামী লীগের যে নেতারা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেখভাল করছিলেন, তারা শামীম ওসমানকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, যদি নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে তিনি সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধিতা না করেন তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

তবে এ পুরস্কার কি সেটি তারা স্পষ্ট করেননি। তবে কোনো কোনো নেতা আকার-ইঙ্গিতে প্রচ্ছন্নভাবে শামীম ওসমানকে বুঝিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ জয়যুক্ত হয় তাহলে শামীম ওসমান হয়তো কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পর শামীম ওসমান সংসদ ভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। শেখ হাসিনা তাকে আশীর্বাদ করেছেন। এটিই তাহলে পুরস্কার?

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, না এটি পরিষ্কার নয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে শুদ্ধি অভিযানের এক পরিকল্পনা চলছে আওয়ামী লীগের। নারাণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পর নারাণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতির উপর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। যারা এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন।

এই পূর্ণাঙ্গ সুপারিশে তারা নারায়ণগঞ্জের কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এখন কাজ চলছে। নারাণগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত তারা জানেন যে, গোটা নারাণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনগুলোই শামীম ওসমান নিয়ন্ত্রিত। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। অন্যান্য কমিটিগুলো এখন পর্যন্ত শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর এই নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার জন্য এখন নানা রকম চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে নানা রকম আলাপ-আলোচনাও চলছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের একক কর্তৃত্ব অবসানের একটি বড় উপায় হলো কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানো। কারণ শামীম ওসমানের পকেট কমিটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে যেন শামীম ওসমান মাথা না ঘামান সেজন্য অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই মনে করেন যে, শামীম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে আনতে হবে।

কিন্তু ওসমান পরিবারের আওয়ামী লীগে বহু অবদান রয়েছে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে এই পরিবারটি। বিশেষ করে পচাত্তরের পর থেকে ওসমান পরিবার নানা চড়াই-উৎরাই মধ্য দিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও জাতীয় সংসদে এক শোক প্রস্তাবে ওসমান পরিবারের অবদানের কথা স্বীকার করেন।

কিন্তু ওসমান পরিবারের অবদানের জন্য নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে ডুবতে দিতে চান না আওয়ামী লীগ সভাপতি। আর সে কারণেই এমন একটি কৌশল নেয়া হচ্ছে যেখানে শামীম ওসমানকেও সম্মানিত করা হবে, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের যে সংকট, সেই সংকটও দূরীভূত হবে। আর এ কারণেই শেষ পর্যন্ত হয়তো শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য পদের তিনটি শূন্য পদ রয়েছে। আর এই শূন্য পদের যেকোন একটিতে যে শামীম ওসমানকে নিয়ে আসার একটি সক্রিয় ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে। এর ফলে যেটি হবে যে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ করবেন না শামীম ওসমান।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post বিচারপতি শাহাবুদ্দিন: কি পরিচয়ে থাকবেন?
Next post ইউক্রেন দখল!