জামায়াত না ছাড়লে কিছুই পাবে না বিএনপি

বিএনপি সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনীতির চেয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেন-দরবার করতেই ব্যস্ত। পশ্চিমা দেশগুলোতে বিএনপি নানা রকমভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার, বিষোদগার করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যেন আন্তর্জাতিক মহল সোচ্চার হয় সেজন্য চেষ্টা করছে।

আর এই চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে তারা বিভিন্ন রকমের তৎপরতা চালাচ্ছে। যুক্তরাজ্যও তাদের সক্রিয় কর্মকান্ড চোখে পড়ার মতো। এর পাশাপাশি ভারতের সাথেও সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নতুন করে চেষ্টা করছে দলটি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেই এসব কর্মকাণ্ড।

তবে এসব তৎপরতায় আওয়ামী লীগের ক্ষতির চেয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি বেশি করছে। অনেকেই মনে করেন যে, সাম্প্রতিক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বর্তমান এবং সাবেক যে সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হলো বিএনপি’র অপপ্রচার এবং অপতৎপরতা।

এছাড়াও বাংলাদেশে গুম নিয়ে বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় যে লবিং করছে তাতে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষতি বৃদ্ধি তেমন হচ্ছে না। বরং দেশের কিছুটা হলেও ক্ষতি হচ্ছে। আর বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ সম্বন্ধে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য একটি চাপ সৃষ্টি করা।

বিভিন্ন দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বর্তমান সরকারকে অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছেন যে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই।

কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি’র এসব দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশই। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং ভারত সবাই বিএনপিকে আগে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপিকে পশ্চিমা দেশগুলো জানিয়েছে যে, দাবি-দাওয়া উত্থাপনের আগে বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। আর এই আহ্বানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিএনপি এখন প্রকাশ্যে জামায়াতের সঙ্গে কোনো রকম বৈঠক করছে না।

২০ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য এতে সন্তুষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বলা হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে ভূমিকা রাখার আগে তারা বিএনপিতে গণতন্ত্রের চর্চা দেখতে চান এবং বিএনপি যে কট্টর মৌলবাদী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আতাত করে না এই অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার।

এ জন্যই তারা বিএনপিকে প্রস্তাব দিয়েছে, তারা যেন অনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের ঘোষণা দেয়। এই সম্পর্ক ত্যাগের ঘোষণার আগে বিএনপির কোনো আহ্বানেই সাড়া দিতে রাজি নয় পশ্চিমা দেশগুলো। বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি যদি উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা পেতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু বিএনপি কি সেটি করতে পারবে?

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post বিচারপতি শাহাবুদ্দিন: কি পরিচয়ে থাকবেন?
Next post ইউক্রেন দখল!