অর্থাভাবে মেডিকেলে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রিংকু

ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। সেজন্য মনযোগী হন পাড়াশোনায়। নিজের চেষ্টায় পিএসসি ও জেএসসিতে পান গোল্ডেন জিপিএ-৫। এরপর এসএসসিতেও জিপিএ-৫। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কঠোর পরিশ্রম কর উচ্চ মাধ্যমিকেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান বরিশালের আগৈলঝাড়ার রত্নাপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন নিখিল চন্দ্র করের মেয়ে রিংকু কর।

এবার তার স্বপ্ন সত্যি হবার পালা। কিন্তু অর্থের কাছে সব কিছু যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে রিংকুর চিকিৎসক হওয়া।

রিংকু কর জানায়, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন চিকিৎসক হওয়ার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তার মা অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে এতদিন পড়াশোনার খরচ চালালেও এখন আর পারছেন না। মেডিকেলে পড়তে গেলে অনেক টাকা লাগে। অভাবের সংসারে এত টাকায় কোথায় পাবে। ফলে এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার চিকিৎসক হয়ে উঠা।

রিংকু কালকিনি উপজেলার শশীকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় আগৈলঝাড়ার বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫, জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং পিএসসিতে বারপাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

মেধাবী ছাত্রী রিংকু করের মা মনিকা রানী কর বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে আমার অভাবের সংসার। দীর্ঘদিন থেকে আমি দিনমজুরের কাজ করে সংসার পরিচালনার পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছি। অনেক স্বপ্ন ছিল বড় মেয়ে রিংকু কর একদিন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ডাক্তার হবে। শুধুমাত্র অর্থাভাবে আজ সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ইউপি ভোটে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সহিংসতা চালানো সেই ‘সন্ত্রাসীরা’ গ্রেফতার, কারা এরা?
Next post বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি-অপরাজনীতি আরও বেড়ে যাবে: জাতীয় পার্টি