প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর ফেরত দিলেন জমির

ভূমিহীন ও গৃহহীন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরসহ জমি পেয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের শাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন বিশ্বাস। সেই ঘরে স্ত্রী-সন্তানসহ সুখেই দিন কাটে জমির উদ্দিনের। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে থেকে পরিশ্রম করে নিজের জীবনে সচ্ছলতা আনেন জমির। কলার ব্যবসা করে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের পর নিজের টাকায় আট শতক জমিও কিনেছেন।

নিজের কেনা সেই জমিতে ঘরও তুলেছেন।
জমির এখন আর ভূমিহীন নন। তাই তিনি অন্য কোনো এক ভূমিহীনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ঘরের জায়গাটি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকার মানুষ জমিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সবাই সম্মানের চোখে দেখছে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করে জমির দলিল ফেরত দেন জমির। আবেদনে লেখেন, অন্য কোনো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘরটি যেন দেওয়া হয়।

জমির উদ্দিন বিশ্বাস উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের মৃত খেদের বিশ্বাসের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, জমির উদ্দিন পেশায় ছিলেন দিনমজুর। অন্যের জমিতে কামলা খেটে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। জমি কেনার মতো অর্থ তাঁর ছিল না। তিনি ভূমিহীন হওয়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরসহ জমি পাওয়ার জন্য জীবননগর ইউএনও বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের গোড়ার দিকে আন্দুলবাবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহাপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ১৩৩৭ নম্বর দাগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই কক্ষের একটি সেমিপাকা ঘর তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মাথা গোঁজার নিশ্চিত ঠাঁই পেয়ে তিনি বিভিন্ন বাজারে কলা বেচাকেনার ব্যবসা শুরু করেন। এতে তিনি প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন। আর্থিক সচ্ছলতা আসায় এরই মধ্যে তিনি আট শতক জমি কিনেছেন। সেই জমিতে ঘরও তুলেছেন।

জমির বলেন, ‘একসময় আমার নিজের কোনো জমিও ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর ও জমি দিয়েছেন। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ার পর আমি নিশ্চিন্তে কলার ব্যবসা শুরু করি। কলার ব্যবসা করে আমি যা আয় করেছি, তা দিয়ে আট শতক জমি কিনেছি এবং ওই জমির ওপর ঘরও তৈরি করেছি। যেহেতু আমার নিজের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই হয়েছে, এ কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর ও জমি ফেরত দিয়েছি। উপহারের এই জমি ও ঘর অন্য কোনো ভূমিহীন পেলে তাতেই আমি খুব খুশি হব। ’

জমির বলেন, ‘আমি ঘর ফেরত দেওয়ার আবেদনের পর ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যার আমাদের এখানে এসে আমার সাথে কথা বলেছেন। আমি বলেছি, আমি আমার ঘরে থাকব। উপহারের ঘর অন্য কোনো ভূমিহীন পেলে আমার আপত্তি নেই। আমি আর ওই ঘর দাবি করব না। ’

জীবননগরের ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জমির উদ্দিন বিশ্বাস ঘর ফেরত দেওয়ার আবেদন করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে আমরা তাঁর সাথে কথা বলেছি। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মহোদয়ও গিয়েছিলেন তাঁর বাড়ি। তাঁর আবেদনের বিষয় এবং অন্য সব কিছু খোঁজখবর নেওয়ার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে : রাষ্ট্রপতি
Next post পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর: চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষা