রেজা কিবরিয়া কি পরবর্তী ড. কামাল হচ্ছেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাঝে মাঝে পশ্চিমাদের কিছু প্রিয়ভাজন ব্যক্তি আবির্ভূত হন। এই সমস্ত প্রিয়ভাজন ব্যক্তিদের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকে না, জনগণ তাদেরকে চেনেও না, জনগণের আপন মানুষ হয়ে উঠতেও পারেন না তারা।

কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের সুখ্যাতি ছড়ায়, তারা আন্তর্জাতিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে তারা প্রভু মনে করেন। শুধু প্রভুই মনে করেন না, তাদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। তাদের রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, পশ্চিমা দেশগুলোর অনুগত হয়ে তাদের অভিপ্রায় আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা।

আর এ কারণেই তারা দেশের চেয়ে বিদেশে পরিচিত হতে বেশি পছন্দ করেন। তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে আগ্রহ বোধ করেন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চাইতে তারা বিভিন্ন দূতাবাসে যেয়ে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হন। এরকম একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন ড. কামাল হোসেন।

ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবেই রাজনীতিতে এসেছিলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ড. কামাল হোসেনকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাকে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও। কিন্তু পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের সময় তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং রহস্যময়।

এরপর রাজনীতিতে তিনি একজন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে যতটা পরিচিত হয়েছিলেন তার চেয়ে বেশি হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের একান্ত অনুগত এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে। তাদের স্বার্থ সুরক্ষা করাই যেন তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান অভিপ্রায় হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ড. কামাল হোসেন এখন বার্ধক্যজনিত অবস্থায় রয়েছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে মাঝে মাঝে শুধুমাত্র কিছু বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যে সরব দেখা যায়। এ অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর মুখপাত্র কে হবে এ নিয়ে যখন সংশয় এবং অনিশ্চয়তা, ঠিক সেই সময় আবির্ভূত হলেন রেজা কিবরিয়া।

রেজা কিবরিয়ার রাজনৈতিক কোনো অতীত পরিচয় নেই। তার একমাত্র পরিচয় শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র তিনি। রাজনীতিতে তিনি আদৌ এসেছেন কিনা নাকি পশ্চিমা দেশগুলোর কোন স্বার্থ উদ্ধারের মিশনে তাকে সামনে আনা হয়েছে তাও এক রহস্যময় প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণঅধিকার পরিষদ বলে একটি রাজনৈতিক দল আবির্ভূত হয়েছে। মূলত ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের নেতৃত্বে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এই রাজনৈতিক ফোরামটিতে সভাপতি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে রেজা কিবরিয়াকে।

ড. রেজা কিবরিয়া একজন অর্থনীতিবিদ কিন্তু খুব বড় মাপের অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি পরিচিতি পান নাই। কিন্তু এখন রাজনীতিতে এসে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে তিনি নানামুখী আলাপ-আলোচনায় আসছেন। এই আলাপ-আলোচনার মূল লক্ষ্যটাই হলো পশ্চিমাদেরকে আকৃষ্ট করা এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং অভিপ্রায়গুলো বাস্তবায়ন করা। জনগণ তাকে খুব একটা চেনেও না। কিন্তু রেজা কিবরিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এখন মরিয়া হচ্ছেন এবং সে লক্ষ্যে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্তহীন ব্যক্তিরা পরগাছা হিসেবে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন। এরা বিদেশিদের পদলেহন করেন এবং বিদেশিদের সহায়তায় অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টাও খুব একটা সফল হয় না। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশ যখন বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাহায্য বা ঋণের উপর মোটেও নির্ভরশীল নয় তখন রেজা কিবরিয়ার পরিণতি কি ড. কামাল হোসেনের হোসেনের চেয়েও খারাপ হবে, এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে।

কারণ ড. কামাল হোসেনের মত মেধাও রেজা কিবরিয়ার নেই, ড. কামাল হোসেনের মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলের ছায়াও তিনি পান নাই। গণঅধিকার পরিষদের মতো একটি নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে কিছু বিবৃতি দিয়ে কয়েকজন মানুষের হাত তালি পাওয়া যায় কিন্তু জনগণের হৃদয়ে স্থান পাওয়া যায়না। খুব শীঘ্রই রেজা কিবরিয়ার পরিণতি ড. কামাল হোসেনের চেয়েও খারাপ হবে। যেখানে তিনি দল সর্বস্ব একটি রাজনৈতিক দলের একক নেতা থাকবেন এবং পশ্চিমাদের চা-চক্রে আমন্ত্রিত হয়ে কিছু বক্তৃতা-বিবৃতি দেবেন।

সোর্সঃ বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post নরেন্দ্র মোদিকে টেলিভিশন বিতর্কের আহ্বান জানালেন ইমরান খান!
Next post আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় নতুন বিএনপি