নতুন সিইসি: মোশাররফ না আউয়াল?

আজ অনুসন্ধান কমিটি নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছে। অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে বৈঠক করা, নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনার পর নতুন সিইসি ও তার সঙ্গে আরও চারজন নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নের কাজটি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে অনুসন্ধান কমিটি।

গতকাল নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির প্রধান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ১২-১৩ জনের একটি তালিকা তিনি চূড়ান্ত করেছেন। কিন্তু এই তালিকা আগামীকাল আরেক দফা বৈঠকের পর যাচাই-বাছাই করা হবে এবং আগামীকালই হয়তো মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে নামের প্রস্তাব পাঠানো হবে।

এই প্রথম দেশে নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে। এই অনুসন্ধান কমিটি ৩২২ জনের নাম পেয়েছে। এই নামগুলো যাচাই-বাছাই করে তারা ১২ থেকে ১৩ জনের নামের তালিকা তৈরি করেছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবার ক্ষেত্রে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল এগিয়ে আছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এই দুইজনের নাম থাকতে পারে বলে একাধিক সূত্র আশ্বস্ত করেছেন। মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকা অবস্থাতে তিনি বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ওয়াশিংটনে নিয়োগ পান।

সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে পরিচিত এবং একজন দক্ষ, সৎ এবং ব্যক্তিত্ববান অফিসার হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করবেন না বলেই অনেকে মনে করেন এবং মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হলে, তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

অন্যদিকে কাজী হাবিবুল আউয়ালও একজন দক্ষ, মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পরও সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকেননি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন কর্মঠ, সৎ এবং ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসেবে পরিচিত।

তবে শেষ পর্যন্ত এই দুইজন হবেন নাকি এর বাইরেও কেউ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে যে, যদি শেষ পর্যন্ত ১০টি নাম অনুসন্ধান কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে দেন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিপরীতে দুটি নাম দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই দুটি নামই অগ্রাধিকার পাবে।

তবে বিভিন্ন সূত্র মনে করছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা এবং সাবেক সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান, ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ড. মিহির কান্তি মজুমদারসহ আরো দুই একজনের নামও থাকতে পারে। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, শেষ পর্যন্ত যে অনুসন্ধান কমিটি প্রধান কমিশনার হিসেবে একজন সাবেক আমলাকেই মনোনয়ন দেবেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

এই ১০ জনের মধ্যে থেকেই রাষ্ট্রপতিকে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী এই চারজনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ রাষ্ট্রপতির নেই।

সোর্সঃ বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post নরেন্দ্র মোদিকে টেলিভিশন বিতর্কের আহ্বান জানালেন ইমরান খান!
Next post আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় নতুন বিএনপি