কেন এতো মরিয়া নিপুণ?

চলচ্চিত্রের শিল্পী সমিতির নির্বাচকে ঘিরে জল কম ঘোলা হয়নি। ‘টক অব দ্য’ কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়িকা নিপুণের দ্বন্দ্ব। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। জায়েদ খান নাকি নিপুণ কে, বসতে যাচ্ছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে?

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদে মহামান্য আদালতের স্থিতাবস্থা বিদ্যমান ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সময় পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদে কেউই পদটিতে বসতে পারে না। অথচ আদালতের এমন নির্দেশনা উপেক্ষা করে আবারও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন নিপুণ, যা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করছেন। হঠাৎ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে কেন এতো মরিয়া হয়ে উঠেছেন নিপুণ, সেই প্রশ্ন এখন অনেকেই তুলেছেন।

রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) চিত্রনায়ক ইমনের শপথ গ্রহণ শেষে নিপুণকে চেয়ারে বসতে দেখা গেছে। চিত্রনায়িকা জয়া চৌধুরীও নিপুণের চেয়ারে বসা তার সঙ্গে সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এর আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন নিপুণ। নিপুণের এই সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসা আদালত অবমাননার সামিল বলে মনে করেন অনেকেই। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে নিপুণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

যদিও তখন নিপুণ সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আমিই সাধারণ সম্পাদক। আমাকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে, আমি দায়িত্ব চালিয়ে যাব। আমার আইনজীবী আমাকে বলেছে। সবাই আদালতের নির্দেশনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছেন। হয়তো এটা মিসটেক। তাই আজ গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে ভুল তথ্যগুলো শুধরে দিতে চাই। মহামান্য আদালতের আদেশ অনুযায়ী আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমিই শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এ পদে দায়িত্ব পালন করতে আমার কোনো বাধা নেই।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে নিপুণের এমন কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে উকিল নোটিশ পাঠান নির্বাচনে তার প্রতিদন্দ্বি প্রার্থী চিত্রনায়ক জায়েদ খান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, আপাতত পদটি শূন্য থাকবে। যতদিন না আমার মক্কেলের (জায়েদ খান) করা রুলের নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু তার আগেই নিপুণ নিজেকে সাধারণ সম্পাদক দাবি করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা আদালত অবমাননার শামিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। ২৮ জানুয়ারি (শুক্রবার) চলচ্চিত্র শিল্পীদের দ্বিবার্ষিক এই নির্বাচনে জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর আপিল বোর্ড জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে একই পদে জয়ী ঘোষণা দেয়। তাই পদটি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তারা। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) যার শুনানি হবে আদালতে।

সোর্সঃ বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post রেজা কিবরিয়া কি পরবর্তী ড. কামাল হচ্ছেন?
Next post চেয়ারম্যান-মেয়রসহ আ.লীগের ১০ নেতার একযোগে পদত্যাগ