বিএনপির জন্য আ’লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ৪০ মিনিট অপেক্ষা!

সরকারি দল হওয়া সত্ত্বেও বিএনপিকে শহীদ মিনারে আগে শ্রদ্ধা জানাবার সুযোগ করে দিল আওয়ামী লীগ। ভোর থেকেই রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এবং ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে দলে দলে আসতে শুরু করে মানুষের ঢল।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সমবেত হন তাদের পূর্বনির্ধারিত স্থান নিউমার্কেটের দক্ষিণ ফটকের সামনের রাস্তায়। সকাল পৌনে ৭টা। তখনও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখা ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে আসছে মানুষ।

সাড়ে ৭টার সময় সামনে থাকা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রভাতফেরি শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছেন, ঠিক এই সময়ে দেখা গেল নিউমার্কেট মোড়ের কাছে বিএনপির প্রভাত ফেরির মিছিল। বেশ খানিক সামনে এগিয়ে থাকা আওয়ামী নেতৃবৃন্দ হাঁটা শুরু করলেই বিএনপির মিছিলকে বাধ্য হয়ে থামতে হয় এবং লীগের দীর্ঘ লাইন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

সেখানে তখন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল আউয়াল শামীম, শাহজাহান খান এমপি উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অগ্রসর হলেন না। তারা রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে থেকে বিএনপির মিছিলটিকে শহীদ মিনারের দিকে যেতে দিলেন। তাদের পাশ দিয়ে নানা স্লোগান দিতে দিতে চলল বিএনপির প্রভাত ফেরি। আগে এসেও আধ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করলো লীগের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সচরাচর নিউমার্কেট এলাকায় সবাই জমায়েত হয়ে শহীদ মিনারে যাই, আজকেও আমরা নিউ মার্কেটের সামনে থেকে শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলাম। এমন সময় বিএনপির একটি মিছিল আসার পর আমরা তাদের যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। অবশ্য উস্কানিমূলক নানা বিতর্কিত স্লোগান দিতে দিতে তারা যাচ্ছিলেন।

‘বিতর্কিত শ্লোগান দেওয়ার পরেও আমাদের নেতাকর্মীরা যথেষ্ঠ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। অবশ্য বিএনপির এই মিছিল যাওয়ার সুযোগ করে দিতে গিয়ে আমাদের প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

বিডি প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post মাথাব্যথা নেই বিএনপির
Next post সুইস ব্যাংকের ১৮ হাজার তথ্য ফাঁস!