আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতমুখী কেন?

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এখন ভারতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতে গেছেন।

সিমলায় অনুষ্ঠান শেষে তিনি এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল রয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক যখন ভারতে ঠিক সেই সময় আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আরেক হেভিওয়েট নেতা ওবায়দুল কাদের ভারতে গেছেন।

দুইজনই ব্যক্তিগত কারণে এবং চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে। কিন্তু তাদের ভারত সফর কি আসলেই শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য? না এর আড়ালে কূটনীতি রয়েছে।

গত একযুগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানারকম টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অতিরিক্ত মাখামাখি, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হয়।

কূটনীতিকরা অবশ্য মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি সরকারের উগ্রবাদী কিছু নীতি এবং বাংলাদেশবিরোধী আগ্রাসী কথাবার্তা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে।

যে কারণেই হোক না কেন, দুই দেশের সম্পর্ক যে এখন আগের পর্যায়ে নেই সেটি বলাই বাহুল্য। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ভারত সফরে যাচ্ছেন।

কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেই আওয়ামী লীগ সরকার মীমাংসা করতে চায় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর সেজন্যই জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তার পথ ধরে ওবায়দুল কাদের ভারতে গেছেন।

দুইজনই ভারতের থিংক ট্যাংক এবং উচ্চ পর্যায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে থেকেই ভারত ঘনিষ্ঠ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর কবির নানক ওয়ান-ইলেভেনের সময় ভারতের আশ্রয়ে ছিলেন। তিনি এবং মির্জা আজম সেসময় এক বছরের বেশি সময় ভারতে অবস্থান করেছিল। এই দুই নেতার ভারতে প্রভাব বলয় রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছেন, শুধু এই দুই নেতাই না, সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও ভারতে যাবেন। একদিকে যেমন সরকারিভাবে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তেমনিভাবে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের একটা তৎপরতা গ্রহণ করেছে সেটি দৃশ্যমান করা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক তৎপরতাটি আনুষ্ঠানিক নয়। আর এ কারণেই চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে। যেমন, ধরা যাক জাহাঙ্গীর কবির নানক ভারতে গেছেন, সেখানে তিনি দিল্লীতে চিকিৎসা নেবেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে।

কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানক এর আগে যখন অসুস্থ হয়েছিল তখন তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। একই কথা চলে ওবায়দুল কাদের ক্ষেত্রেও। ওবায়দুল কাদের যখন অসুস্থ হয়েছিলেন তখন তার চিকিৎসা হয়েছিল সিঙ্গাপুরে এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

কাজেই উন্নত চিকিৎসার জন্য যেখানে তারা সিঙ্গাপুর যান, সেখানে হঠাৎ করে ভারতে বিশেষ করে দিল্লিতে যাচ্ছেন কেন সেটি একটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন যে, সামনের দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের আরো কয়েকজন নেতা ভারত সফর করবেন।

কারণ ২০১৪ এবং ২০১৮ এই দুটি নির্বাচনেই ভারত-বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং এই নির্বাচনগুলোকে আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানারকম মেরুকরণ চলছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বিশেষ করে মার্কিন চাপ বাড়ছে। এ সমস্ত প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ভারত সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা হলেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উৎসঃ বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ডানা ছাঁটা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ
Next post ছাত্রলীগ নেতাকে যেভাবে মেরে রক্তাক্ত করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী